শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:১৭

মিয়ানমারে জান্তার রোষানলে চিকিৎসাকর্মীরা

মিয়ানমারে জান্তার রোষানলে চিকিৎসাকর্মীরা
মিয়ানমারে সেনা শাসনের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় গতকাল একদল মানুষ ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ করে -এএফপি
Google News

মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর থেকে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনীর গুলিতে প্রতিদিন লোক মারা যাচ্ছে। আর চলমান সেনাশাসনবিরোধী আন্দোলনের শুরু থেকেই তাতে অংশ নিচ্ছেন দেশটির চিকিৎসাকর্মী ও প্রকৌশলীরা। তা ছাড়া তারা জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আহত বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসাসেবা বাধাগ্রস্ত করতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে দেশটির সেনা কর্তৃপক্ষ। এসবের অংশ হিসেবে চিকিৎসাকর্মীদের নিশানা করেছে জান্তা। এ নিয়ে দ্য গার্ডিয়ান একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে দাবি করা হয়েছে, মিয়ানমারে চিকিৎসাকর্মীদের নিশানা করছে দেশটির সামরিক জান্তা। দেশটির চিকিৎসাকর্মীরা প্রায় নিয়মিত জান্তার হয়রানি, হামলা, দমন-পীড়ন ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। শনিবার দ্য গার্ডিয়ান ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।  দেশটির চিকিৎসাকর্মীরা বলছেন, আহত কোনো ব্যক্তির চিকিৎসা করতে দিচ্ছে না জান্তা কর্তৃপক্ষ। তারা বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিকসহ চিকিৎসা সংক্রান্ত স্থাপনায় দিনরাত তল্লাশি চালাচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে হামলা করছে। চিকিৎসাকর্মীদের আটক বা গ্রেফতার করছে। কাউকে কাউকে মারধর করা হচ্ছে। এমনকি তাদের কোনো কোনো সহকর্মী প্রাণও হারিয়েছেন। ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটসের রাহা ওয়ালা বলেন, মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও জাতীয় ধর্মঘটে অংশ নেওয়ায় চিকিৎসাকর্মীদের পদ্ধতিগতভাবে নির্যাতন-নিপীড়ন করছে দেশটির সেনাবাহিনী। মিয়ানমারের চিকিৎসাকর্মীদের ভাষ্য, দেশটির বিভিন্ন স্থান থেকে চিকিৎসাকর্মীদের আটক বা গ্রেফতারের তথ্য প্রায় প্রতিদিনই আসছে। ক্লিনিক, বিক্ষোভের স্থান, এমনকি বাড়ি থেকে তাদের তুলে নেওয়া হচ্ছে। কিছুসংখ্যক চিকিৎসাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি।

গত সপ্তাহে অর্থোপেডিক সার্জন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কিউ মিন সোকে তার ইয়াঙ্গুনের বাসভবন থেকে তুলে নেওয়া হয়। তার দুই হাত পিছমোড়া করে শক্ত করে বেঁধে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। অধিকারবিষয়ক সংগঠন অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের (এএপিপি) তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারে দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভে ৭০০ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। গ্রেফতার আটক হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা হাজারও। এএপিপি জানায়, মিয়ানমারে চলমান সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচ চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন। নিহত চিকিৎসাকর্মীদের মধ্যে নার্সিং শিক্ষার্থী থিনজার হেইন (২০) আছেন। তিনি আহত বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সময় গত ২৮ মার্চ গুলিতে নিহত হন। থিনজার সেনা অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করেছিলেন। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য তিনি অন্যদের এ সংক্রান্ত কৌশল শিখিয়ে ছিলেন। মিয়ানমারে গত ১ ফেব্রুয়ারি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থান হয়। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সেনাবাহিনী। গ্রেফতার করা হয় অং সান সু চিসহ তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের। সেনাবাহিনী মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি করে। সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রথম দেশটির অন্তত ৩০টি শহরের ৭০টি হাসপাতাল ও মেডিকেল বিভাগের কর্মীরা কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন। ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এ কর্মবিরতি পালন করেন তারা।