শিরোনাম
শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০ টা

গাজায় নিহত ২০ হাজার ছাড়াল

গাজায় নিহত ২০ হাজার ছাড়াল

৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার জবাবে গাজায় ইসরায়েলের পাল্টা হামলার শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। সংঘাত শুরুর পর থেকে সাত দিনের যুদ্ধবিরতি বাদে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিজিওনাল ইমারজেন্সি ডিরেক্টর রিচার্ড বলেছেন, নিহতের সংখ্যার ব্যাপারে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য বিশ্বাসযোগ্য। যুদ্ধক্ষেত্রে নিহতের সংখ্যা গণনার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাইকেল স্প্যাগাট বলেন, যে হারে এ সংঘাতে ইসরায়েলের হামলায় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, তা ‘অস্বাভাবিক রকমের বেশি’। গাজার মোট জনসংখ্যা প্রায় ২২ লাখ। সে হিসাবে উপত্যকার প্রায় ১ শতাংশ মানুষ নিহত হয়েছে ইসরায়েলি আক্রমণে।

যুদ্ধক্ষেত্রে নিহতের সংখ্যার হিসাব রাখাটাও একটি চ্যালেঞ্জ। গাজার চিকিৎসকরা বলছেন, নিহতের সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বেশি হতে পারে। কারণ, বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মৃতদেহ এবং যাদের হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি তারা এ হিসাবের মধ্যে নেই। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ঢুকে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধের দুই মাস পূর্ণ হয়েছে। এখন যুদ্ধ তীব্রতম পর্বে প্রবেশ করেছে। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ঘনবসতিপূর্ণ গাজার বিভিন্ন লক্ষ্যে অবিরাম বোমা হামলা চালাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গাজায় হামলা বন্ধ করা এবং গাজাবাসীর জন্য আরও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ দিতে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষণ অনুসারে, চলমান সংঘাতে মধ্য ডিসেম্বর পর্যন্ত গাজায় ২৯ হাজারের বেশি বোমা ফেলেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের হামলায় নিহতদের মধ্যে ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ৮ হাজারের বেশি শিশু এবং ৬ হাজার ২০০-এর বেশি নারী ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ৩১০ জন চিকিৎসাকর্মী, ৩৫ জন সিভিল ডিফেন্স কর্মী এবং ৯৭ জন সাংবাদিকও নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতির শর্ত প্রত্যাখ্যান করল হামাস : অন্তত ৪০ জন জিম্মির মুক্তির বিনিময়ে গাজায় এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল ইসরায়েল, যা প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস। বরং ইসরায়েল আগে গাজায় হামলা চালানো বন্ধ করলেই বন্দি মুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনকামী সশস্ত্র সংগঠনটি।

এক প্রতিবেদনে যুদ্ধবিরতি আলোচনা আপাতত এখানেই থেমে গেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে বলা হয়, মিসরের মধ্যস্থতায় আরেকটি যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু হয়। বুধবার সে আলোচনায় যোগ দেন খোদ হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়া। এ আলোচনায় হামাসকে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দিতে বলেছে নেতানিয়াহু সরকার। এর বিনিময়ে গাজা উপত্যকায় আবারও সাত দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। পাশাপাশি গাজায় আরও মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে ইসরায়েল। তবে হামলা বন্ধ না করলে জিম্মি মুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে হামাস। হানিয়ার মিডিয়া উপদেষ্টা তাহের আল-নোনো রয়টার্সকে বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান  স্থায়ীভাবে শেষ না করা এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিকদের জন্য মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি না করা পর্যন্ত আরও ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তির বিষয়ে কোনো প্রকার আলোচনা করতে ইচ্ছুক নয় হামাস। তাহের বলেন, ‘ইসরায়েল তার আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়ার সময় আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করার কথা বলতে পারি না। আগ্রাসন বন্ধের পরে জিম্মি সম্পর্কিত যে কোনো প্রস্তাব নিয়ে অবশ্যই আলোচনা হবে।’

সর্বশেষ খবর