শিরোনাম
প্রকাশ : ১৭ জুলাই, ২০২১ ১১:০৯
প্রিন্ট করুন printer

ফজিলতময় আয়াতুল কুরসি

মুহাম্মদ ওমর ফারুক

ফজিলতময় আয়াতুল কুরসি
Google News

মহান আল্লাহ আল কোরআনকে মানব জাতির পরিপূর্ণ জীবন-বিধান হিসেবে নাজিল করেছেন। এ মহামূল্যবান গ্রন্থের দ্বিতীয় সুরা আল বাকারার ২৫৫তম আয়াত হলো আয়াতুল কুরসি। এ আয়াতটিতে যে মহামূল্যবান ১০টি বাক্য রয়েছে তার প্রতিটিতে আল্লাহর ক্ষমতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। আয়াতুল কুরসি পাঠে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণ সাধিত হয়, এ আয়াতের বরকতে বিভিন্ন বিপদাপদে আল্লাহর রহমত অর্জন করা যায়। আয়াতুল কুরসিতে বলা হয়েছে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। কোনো তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে পাকড়াও করতে পারে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই মালিকানাধীন। তাঁর হুকুম ছাড়া এমন কে আছে যে তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসমুদ্র থেকে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যতটুকু তিনি দিতে ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। তাঁর কুরসি সমগ্র আসমান ও জমিন পরিবেষ্টন করে আছে। আর সেগুলোর তত্ত্বাবধান তাঁকে মোটেই শ্রান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও মহান। একদিন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত উবাই ইবনে কাবকে জিজ্ঞাসা করলেন সবচেয়ে ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ আয়াত কোনটি? উবাই ইবনে কাব আরজ করলেন, তা হচ্ছে আয়াতুল কুরসি। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা সমর্থন করলেন এবং বললেন, হে আবুল মানজার! তোমাকে এ উত্তম জ্ঞানের জন্য ধন্যবাদ। মুসনাদে আহমাদ।

উবাই বিন কাব থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কসম! যার হাতে আমার প্রাণ আয়াতুল কুরসির একটি জিব ও দুটি ঠোঁট রয়েছে এটি আরশের পায়ার কাছে আল্লাহর প্রশংসা করতে থাকবে। মুসনাদে আহমাদ।

আবু উমামা (রা.) বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ সালাত শেষে আয়াতুল কুরসি পড়ে তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোনো কিছু বাধা হবে না। আল জামে।

হজরত আলী (রা.) বলেন, আমি রসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি নিয়মিত পড়ে তার জান্নাতে প্রবেশে কেবল মৃত্যুই অন্তরায় হয়ে আছে। যে ব্যক্তি এ আয়াতটি বিছানায় শয়নের সময় পড়বে আল্লাহ তার ঘরে, প্রতিবেশীর ঘরে এবং আশপাশের সব ঘরে শান্তি বজায় রাখবেন। বায়হাকি।

শয়নকালে আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত তার হেফাজতের জন্য একজন ফেরেশতা পাহারায় নিযুক্ত থাকে। যাতে শয়তান তার নিকটবর্তী হতে না পারে। বুখারি।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, রসুলে করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, সুরা আল বাকারায় এমন একটি আয়াত রয়েছে যা কোরআনের অন্য সব আয়াতের সর্দার বা নেতা। সে আয়াতটি যে ঘরে পড়া হয় সে ঘর থেকে শয়তান বেরিয়ে যায়। তাফসির মা’ আরেফুল কোরআন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ