শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ জুন, ২০১৮ ২৩:৫১

ঈদযাত্রা

টিকিটের জন্য ৩০ ঘণ্টার অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক

টিকিটের জন্য ৩০ ঘণ্টার অপেক্ষা
কমলাপুর রেলস্টেশনে গতকাল টিকিটের জন্য দিনভর ছিল উপচে পড়া ভিড় —বাংলাদেশ প্রতিদিন

ঈদযাত্রায় ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে গতকাল। আজও বিক্রি হবে। চলবে ৬ জুন পর্যন্ত। পর্যায়ক্রমে ২, ৩, ৪, ৫ ও ৬ জুন বিক্রি হবে ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ জুনের আগাম টিকিট। এদিকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, মাত্র দুটি করে টিকিট সংগ্রহের জন্য ক্রেতাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ৩০ ঘণ্টা করে। জানা গেছে, প্রথম দিনে গতকাল সকাল ৮টায় ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশনে ২৬টি কাউন্টারে একযোগে ১০ জুনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ভোর থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে টিকিটপ্রত্যাশীর উপচে পড়া ভিড় ছিল। কমলাপুর রেলস্টেশনে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ভিড় করেন টিকিটপ্রত্যাশীরা। এদের পাশে ১১ জুনের আগাম টিকিট পেতে গতকাল সাহরির পর সারিবদ্ধ হওয়া শুরু করেন কয়েকজন যাত্রী। অথচ সেইদিনের টিকিট দেওয়ার কথা আজ শনিবার। মাত্র দুটি করে টিকিটের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ৩০ ঘণ্টা। প্রতিবারের মতো এবারও মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটে বিক্রি করা হচ্ছে টিকিট। বাড়তি চাপ সামাল দিতে স্টেশনে বসানো হয়েছে র‌্যাব-পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প।

১৪ নম্বর টিকিট কাউন্টারের পাশে খাতা-কলম নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সুমন নামে একজনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বনানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তার গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাটে। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে তিনি বাড়ি যাবেন ১১ জুন। প্রত্যাশিত টিকিটটি পেতে ১০ জুনের আগাম বিক্রির সারির পাশেই এসে দাঁড়িয়েছেন সাহরির পর। ওই সময়েও এসে তিনি দুজনের পরে জায়গা পেয়েছেন। এই প্রতিবেদককে জানান, তার ভালো দুটি সিটের টিকিট প্রয়োজন। মহাসড়কের দুরবস্থার কারণে তিনি ট্রেনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যেন নির্বিঘ্নে মনমতো টিকিট পান, সেজন্য আগেভাগেই স্টেশনে এসে হাজির হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, সকাল ৮টার পর প্রায় চার ঘণ্টা যাবৎ প্রতিটি কাউন্টারে ছিল দীর্ঘ সারি। টিকিটপ্রত্যাশীরা সারিবদ্ধ হন বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকে। মানুষের এই সারি এঁকেবেঁকে সিঁড়ি পেরিয়ে যায় বাইরের দিকে। আগাম টিকিট সংগ্রহে কাউন্টারের সামনে সারিবদ্ধ হতে কেউ রাতে, কেউ কেউ যুক্ত হন সাহরির সময়। অনেকে কাউন্টারের সামনে বসেই সেরে নিয়েছেন সাহরি। আর সাহরির পর টিকিটপ্রত্যাশীর সারি দ্রুত দীর্ঘ হওয়া শুরু করে। জানা গেছে, এ অবস্থায় কেউ পত্রিকা বিছিয়ে কাউন্টারের সামনে বসে, কেউবা গল্প-আড্ডার মধ্যে এবং কার্ড খেলে সময় কাটিয়েছেন। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সকাল ৮টায় টিকিট কাউন্টারগুলো খোলার সঙ্গে সঙ্গে একযোগে সবাই হইহুল্লোড় করে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। প্রথম দিকে যারা টিকিট কেটে ফিরেছেন তাদের সবার চোখেমুখে ছিল বিজয়ের হাসি। কাঙ্ক্ষিত টিকিট পেয়ে অনেকে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অভিযোগের ঝুলিও ছিল মুখে। বরাবরের মতো এবারও তারা এসি কেবিনের টিকিট না পাওয়া ও কালোবাজারির অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্টেশন কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, কালোবাজারি রুখতে স্টেশনের প্রতিটি পয়েন্টে অন্তত ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। কমলাপুর রেলস্টেশনে টিকিট কাটতে আসা শাহরিয়ার নামে একজন অভিযোগ করে বলেন, ‘মাত্র আট-দশ জনের পেছনে ছিলাম, এর মধ্যেই এসি ও বাথের সব কোটা শেষ হয়ে গেছে। এটা কীভাবে শেষ হলো তা সবার প্রশ্ন।’

জানা গেছে, প্রতিদিন মোট ২১ হাজার ৫২৫টি টিকিট বিক্রি করবে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে। আর যেদিন থেকে বিশেষ ট্রেন চলবে সেদিন থেকে আরও ৪ হাজার টিকিট যোগ হবে। প্রতিজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি পর্যন্ত টিকিট কাটতে পারবেন। ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ।

অগ্রিম টিকিট বিক্রির দুটি কাউন্টার ছিল নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত। নারী কাউন্টারের দাঁড়িয়ে ১০ জুনের চট্টগ্রামের টিকিট কেটেছেন সুবর্ণা। তিনি সাহরির পরে এসে এই লাইনে দাঁড়ান। সকাল সাড়ে ৯টায়ও তার সামনে মানুষের দীর্ঘ সারি ছিল। বেলা পৌনে ১২টার দিকে তিনি টিকিট কাটার সুযোগ পান। আলাপকালে তিনি জানান, টিকিট সংগ্রহে নারীদের জন্য আলাদা কাউন্টার থাকলেও টিকিট বিতরণে ধীরগতি ছিল। প্রথম দিকে বলা হচ্ছিল সার্ভার ডাউনের কারণে ধীরগতি। তবে পুরুষের তুলনায় তরুণদের সারি দীর্ঘ ছিল অনেক বেশি। এজন্য অনেকে নারী কাউন্টারে অনেককে ম্যানেজ করে বিভিন্ন রুটের টিকিট কাটিয়ে নিয়েছেন।

কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী জানান, আগাম টিকিট বিক্রিতে শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছাড়াও রেলওয়ের নিজস্ব বাহিনী কাজ করছে। তবে ৮টার পর থেকে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে টিকিট কেটেছেন। গতবারের চেয়ে দুই জোড়া বাড়িয়ে ঈদ উপলক্ষে মোট পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলবে। এসব ট্রেন ঢাকা-পার্বতীপুর, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ, ঢাকা-লালমনিরহাট, ঢাকা-খুলনা রুটে ঈদের আগে তিন দিন এবং ঈদের পর সাত দিন চলবে। ঢাকা-খুলনা রুটের ট্রেনটি সম্পূর্ণ এসি থাকবে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেবিন ও আপার ক্লাসের টিকিটের যাত্রীদের আমরা আমাদের নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু অন্যগুলোর ক্ষেত্রে টিকিট ছাড়া যাত্রীদের সরিয়ে টিকিটে যাত্রীদের সিট নিশ্চিত করা তেমন সম্ভব হবে না।’


আপনার মন্তব্য