শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৬

দুর্নীতিতে থমকে গেছে কক্সবাজার বিমানবন্দর

সরকারের ক্ষতি ১০০ কোটি টাকা, প্রকল্প পরিচালক বরখাস্ত

নিজামুল হক বিপুল

দুর্নীতিতে থমকে গেছে কক্সবাজার বিমানবন্দর

দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সরকারের ১০০ কোটি টাকা অপচয়, অযথা ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ- এরকম সুনির্দিষ্ট সাতটি অভিযোগে কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে গতকাল সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রধানমন্ত্রীর চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্প পরিচালক আমিনুল হাসিব সরকারের স্বার্থসংরক্ষণ না করে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রমকে পিছিয়ে দিয়েছেন। গত জুলাই মাসে যুগ্ম-সচিব এ এইচ এম গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে আমিনুল হাসিবের দুর্নীতির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এরপর অধিকতর তদন্তের জন্য গত আগস্টে অতিরিক্ত সচিব আতিকুল হকের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি হয়। সম্প্রতি এ কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপরই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) গতকাল আমিনুল হাসিবকে সাসপেন্ড করে। সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আমিনুল হাসিব ২০১২ সালের ৪ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প পরিচালক পদে আছেন। তিনি ভূমি অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়ে জেলা প্রশাসক দফতরে টাকা জমা দেননি। জমা দেওয়ার জন্য তিনি চিঠি দেন গত ২৩ মে। এর ফলে নতুন ভূমি অধিগ্রহণ আইন অনুসারে জমির মূল্য পরিশোধ করতে হবে ৩ গুণ। এতে করে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা।

এ প্রকল্পের বেবিচক কর্তৃপক্ষের অর্থায়নে ভূমি অধিগ্রহণ করা হলেও প্রকল্প পরিচালক ভূমিপ্রত্যাশী সংস্থা হিসেবে এলজিইডির নাম উল্লেখ করেছেন। তার ব্যর্থতা ও ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ মামলাটি বাতিল হলেও গত চার মাসেও তিনি ভূমি অধিগ্রহণের জন্য নতুন করে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেননি।

প্রকল্প পরিচালকের পাশাপাশি তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পেরও প্রকল্প পরিচালক। কিন্তু এ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হলেও তিনি গত এক বছরেও প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করতে পারেননি।

প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়, আমিনুল হাসিবের অদক্ষতা, দুর্নীতি ও অসযোগিতার কারণে বেবিচকের উন্নয়ন মুখথুবড়ে পড়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর