শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৪

রোহিঙ্গা নির্যাতন

মিয়ানমারের প্রতি জাতিসংঘে নিন্দা প্রস্তাব

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

মিয়ানমারের প্রতি জাতিসংঘে নিন্দা প্রস্তাব

রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে মিয়ানমারের প্রতি নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন (ইউএনজিএ)। এ প্রস্তাবে রোহিঙ্গা ও অন্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণায় উসকানি দেওয়া বন্ধ করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলোর খবরে বলা হয়, গত চার দশক ধরে চালানো অত্যাচার, নৃশংসতার কারণে রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে শুক্রবার জাতিসংঘ ওই প্রস্তাব পাস করে। এতে নিরপেক্ষ  আন্তর্জাতিক মিশনের তথ্যপ্রমাণকে জোরালোভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। দেখানো হয় কীভাবে রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতন করা হয়েছে ভয়াবহভাবে। এসব অপরাধ করেছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। এ পরিস্থিতিকে মিশন বর্ণনা করেছে ‘আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধ’ হিসেবে। ওই প্রস্তাবটি ১৩৪ ভোটে পাস হয়। ১৯৩ সদস্যের পরিষদে এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেয় ৯টি দেশ। ভোটদানে বিরত থাকে ২৮টি দেশ। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের প্রস্তাব বা রেজুলেশন আইনগতভাবে মানতে বাধ্য নয় মিয়ানমার। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে বিশ্বজনমতের প্রতিফলন ঘটবে। জাতিসংঘে গৃহীত ওই প্রস্তাবে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় সব ধর্মীয় গ্রুপকে সুরক্ষা দিতে এবং সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুবিচার নিশ্চিত করতে। অন্যদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত হাউ ডু সুয়ান নতুন এ রেজুলেশনকে আরেকটি দ্বিমুখী নীতির উদাহরণ এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বৈষম্য বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের ওপর অনাকাক্সিক্ষত রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির জন্য এ প্রস্তাব আনা হয়েছে। কিন্তু এতে রাখাইনের জটিল পরিস্থিতির কোনো সমাধান আসবে না।

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংস অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। কয়েক দশকের এমন অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ২০১৭ সালে জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন কমপক্ষে ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা। তবে বরাবরই মিয়ানমার বলে আসছে, তারা সন্ত্রাসীদের হুমকি মোকাবিলায় অভিযান পরিচালনা করেছে। এ মাসের শুরুর দিকে জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ান দেশটির নেত্রী অং সান সু চি। মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে নৃশংসতা চালিয়েছে, তার পক্ষে তিনি সেনাবাহিনীর পক্ষাবলম্বন করেন। একসময় সারা বিশ্বে মানবাধিকার, শান্তির আইকন হিসেবে দেখা হতো যে সু চিকে, তাঁকে এ ভূমিকায় দেখতে পেয়ে বিস্মিত মানুষ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর