শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ মার্চ, ২০২০ ২৩:৩৯

সৌদিতে রোহিঙ্গাদের হাতে হাতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট

বাংলাদেশি পরিচয়ে রোহিঙ্গাদের সৌদি আসা ঠেকাতে হবে -গোলাম মসিহ

শফিকুল ইসলাম সোহাগ, সৌদি আরব থেকে ফিরে

সৌদিতে রোহিঙ্গাদের হাতে হাতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট

সৌদি আরবে রোহিঙ্গাদের হাতে হাতে এখন বাংলাদেশি পাসপোর্ট। নব্বইয়ের দশকে তিন লাখ রোহিঙ্গা সৌদি আরব এসেছে শরণার্থী হিসেবে। তারা শরণার্থীর মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। এরপর দেশটিতে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা এসেছে, তাদের সবাই বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী। মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা দালালের মাধ্যমে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে সৌদিতে পাড়ি জমায়। তাদের পরবর্তী প্রজন্মও সৌদি আরবে থেকেই বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাচ্ছে। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, কেউ বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে সৌদিতে এলে তাকে বাংলাদেশি বলেই মেনে নিতে হয় দূতাবাসকে। প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিকরা যে সহায়তা পায়, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী রোহিঙ্গাদেরও তা দিতে হয়। বাংলাদেশি পরিচয়ে রোহিঙ্গাদের সৌদি আসা ঠেকাতে হলে তারা যেন অবৈধভাবে পাসপোর্ট না পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। সৌদি আরবের মক্কায় নাক্কাছা ঘুরে দেখা যায়, বাজারের প্রায় সব দোকানি ও আশপাশের বাসিন্দারা জাতিতে রোহিঙ্গা হলেও কাগজে-কলমে তারা বাংলাদেশি। সবার হাতেই বাংলাদেশি পাসপোর্ট। এখানকার দোকানিদের কথায় ‘চাটগাঁইয়া’ ভাষার টান থাকলেও তা রোহিঙ্গা ভাষা। নাক্কাছা বাজারে কথা হয় বৃদ্ধ ফয়েজ আলীর সঙ্গে। তিনি জানালেন, তিনি  একজন ‘বরমাইয়া’। বাড়ি ছিল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুতে। ২০১১ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন শুরুর পর পালিয়ে বাংলাদেশ আসেন। তারপর ২০১৪ সালে আসেন সৌদি আরবে। ৬৫ হাজার টাকায় দালাল ধরে বাংলাদেশি পাসপোর্ট করেছেন। তারপর চার লাখ টাকা খরচ করে সৌদি চলে এসেছেন। তার যেসব আত্মীয় আগে থেকে সৌদি আরবে ছিলেন তাদের সহায়তায় এসেছেন। শুধু ফয়েজ নন, নাক্কাছা বাজারে কয়েক শ দোকানি, আর অন্তত কয়েক লাখ রোহিঙ্গা সৌদি আরবে রয়েছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে। জানা যায়, সৌদি সরকার বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী ৪২ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে তাগিদ দিচ্ছে। তারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশটিতে এসেছিল। এরপর ওয়ার্ক পারমিটের (আকামা) মেয়াদ শেষে অবৈধ হয়ে পড়েছে। গত মাসে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে বিষয়টি ওঠে। বঙ্গবন্ধু পরিষদের মদিনা শাখার সভাপতি মুছা আ. জলিল ছৈয়াল বলেন, অবৈধ হয়ে পড়া এই ৪২ হাজার ছাড়াও সৌদি সরকারের হিসাবের বাইরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী। তিনি দাবি করেন, সংখ্যাটি পাঁচ লাখের কাছাকাছি হতে পারে। অধিকাংশই বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট নিয়ে এসেছে। তাদের পরবর্তী প্রজন্ম সৌদিতে বসে পাসপোর্ট পাচ্ছে।

 

দূতাবাস যাচাই-বাছাই করলে সৌদি আরবে থাকা দালালরা পাসপোর্ট করে দিচ্ছে ছয় থেকে ১০ হাজার রিয়ালে। মক্কার পাহাড়ি এলাকাগুলোতে মূলত রোহিঙ্গাদের বাস। হাতে গোনা কিছু শরণার্থী ছাড়া বাকি সবার রয়েছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট। সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, বিদেশি কর্মীকে একজন নাগরিকের অধীনে থাকতে হয়। যিনি বিদেশি নাগরিকের নিয়োগকারী (কফিল)। তার অধীনেই বিদেশি কর্মীকে কাজের অনুমতি (আকামা) দেয় সৌদি সরকার। প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান, রোহিঙ্গারা সৌদিতে এসে কফিলের অধীনে থাকে না। যে এলাকায় থাকার কথা, সেখানে না থেকে রোহিঙ্গা বস্তিতে চলে যায়। আকামা অনুযায়ী যে কাজ করার কথা তা না করে, বাকি রোহিঙ্গার সঙ্গে মিলে কাজ করে। আকামা নবায়নও করে না। এসব নিয়ম ভাঙার শাস্তি হলো- পুলিশের হাতে ধরা পড়া মাত্র দেশে ফেরত যেতে হবে। বাংলাদেশিদের অনেকে এসব নিয়ম ভাঙে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের প্রায় সবাই নিয়ম ভাঙে। তারা ধরা পড়লে ফেরত পাঠানো যায়। এ কারণে সত্যিকারের বাংলাদেশিরা পড়েছে বিপদে। বাংলাদেশিদের বিষয়ে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে সৌদি আরবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর