শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ মে, ২০২০ ২৩:১৮

তৈরি পোশাকের অর্ডার বাতিলের পর ইইউ পার্লামেন্টের হস্তক্ষেপ চাইল বাংলাদেশ

ইউরোপিয়ান ট্রেড কমিশনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর ঢালাওভাবে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত করায় এ বিষয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পার্লামেন্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কিছু ইউরোপিয়ান ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলোর ক্রয়াদেশ বাতিল ও মূল্য কমানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ ধরনের অনৈতিক ও অস্বস্তিকর পদক্ষেপ পোশাক ব্যবসার নৈতিকতার ধারণার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। উপরন্তু এটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের চেতনার পরিপন্থী বলে চিঠিতে উল্লেখ করে এ বিষয়ে সমাধান চেয়ে ইইউ পার্লামেন্টের কমিটি অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (আইএনটিএ)এর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

এই চিঠি এমন একসময়ে দেওয়া হয়েছে, যখন দেশের রপ্তানি আয়ের বিপর্যয় ঠেকাতে তিন দিন আগে একটি সভা করেছে ইপিবি (রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো) এবং ওই সভায় পোশাক খাতের ক্রয়াদেশ বাতিলের বিষয়ে ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত বদলাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বিজিএমইএ বলছে, গত এপ্রিল পর্যন্ত করোনাভাইরাসের কারণে তাদের এক হাজারের বেশি পোশাক কারখানার প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্ডার বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এসব কারখানায় মোট ২০ লাখ ১৬ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান রয়েছে। পরবর্তীতে কিছু কোম্পানি (যা এরই মধ্যে তৈরি হয়ে গেছে) পোশাক নেওয়ার ঘোষণা দিলেও মূল্য কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক কারখানা তাদের শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছে না। অনেক শ্রমিক চাকরি হারাচ্ছে। ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অনেক কারখানা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানায়, গত ১৩ মে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য ও কমিটি অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (আইএনটিএ)এর চেয়ার মি. ব্রান্ড ল্যাঞ্জের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন। ওই চিঠিতে আইএনটিএর চেয়ারকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, কভিড-১৯ বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং রপ্তানিভিত্তিক তৈরি পোশাক কারখানায় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ ভাগই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এ মুহূর্তে এই খাতটিকে পর্যাপ্ত সহায়তা না দিলে ধসে পড়তে পারে। চিঠিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার পোশাক খাতকে চাঙ্গা করতে নানামুখী উদ্দীপনা প্যাকেজ গ্রহণ করেছে। তবে এটি ৪০ লাখ শ্রমিকের জীবন ও জীবিকা নির্বাহের পক্ষে যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে যার বেশির ভাগই নারী শ্রমিক-দেশের টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। আমরা বুঝতে পারি যে, মহামারীটি  (কভিড-১৯) ইউরোপীয় অনেক ব্যবসায়ও ক্ষতি করেছে। এই বিরাট চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা ইইউর সহযোগিতা চাই। বিশেষ করে নীতিগত এবং মানভিত্তিক বাণিজ্য এবং সবার জন্য দায়বদ্ধ ব্যবসা পরিচালনা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইইউ ভূমিকা রাখবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. মো. জাফর উদ্দীন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সারা বিশ্বের প্রতিটি দেশই কমবেশি সংকটের মুখে পড়েছে। এর পরও কিছু ইউরোপিয়ান ক্রেতা প্রতিষ্ঠান যেভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অর্ডার বাতিল ও মূল্য কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে সেটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতির সঙ্গে যায় না। আমরা এ বিষয়ে ইইউ পার্লামেন্টের যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটি (আইএনটিএ) রয়েছে, তার চেয়ারম্যানের কাছে সহায়তা চেয়েছি।

সচিব বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, সর্বশেষ আইএনটিএর  বৈঠকে বাংলাদেশের মতো যেসব দেশের পোশাক কারখানার অর্ডার বাতিল হয়েছে- সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ক্রয়াদেশ দেওয়ার পর এরই মধ্যে যেসব পোশাক তৈরি হয়ে গেছে গার্মেন্ট কারখানাগুলোতে, সেগুলোর বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়- ওই সভায় ট্রেড কমিশনারের কাছে তা জানতে চেয়েছেন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্যরা। আমরা আশা করছি ইইউ (আইএনটিএ) আগের মতোই এ বিষয়ে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর