শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:৫১

আবারও প্লাবিত উত্তরের জনপদ বিপৎসীমার ওপরে ৪ নদী

নিজস্ব প্রতিবেদক

আবারও প্লাবিত উত্তরের জনপদ বিপৎসীমার ওপরে ৪ নদী
পানি বাড়ায় লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত -বাংলাদেশ প্রতিদিন

বন্যার ছোবল থেকে মুক্তি মিলছেই না দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের। কোথাও টানা তিন দফা, কোথাও চার দফা বন্যার পর ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে আবার হু হু করে বাড়ছে অধিকাংশ প্রধান নদ-নদীর পানি। এতে ফুঁসে উঠছে শাখা নদীগুলোও। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। গতকাল সকালে চারটি নদীর পানি চারটি পানি সমতল স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সেই সঙ্গে অব্যাহতভাবে সব প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বন্যার ক্ষত না শুকাতেই আবারও প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। আবারও বড় বন্যার আতঙ্কে রয়েছে উত্তরের বন্যাদুর্গত জেলাগুলোর মানুষ। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য মতে, গত বুধবার সকালে শুধু গুড় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে ছিল। সন্ধ্যা নাগাদ ধরলা ও তিস্তা নদীও বিপৎসীমা অতিক্রম করে। ২৪ ঘণ্টায় ৬৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল সকালে ধরলার পানি কুড়িগ্রামে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার, তিস্তার পানি ৪৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার, যদুকাটা নদীর পানি ৮০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে লরেরগড়ে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ও গুড় নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে সিংড়ায় বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা আজও অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা-পদ্মার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার সব প্রধান নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা আগামীকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন ভারতীয় অংশে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সব প্রধান নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য- কুড়িগ্রাম : চতুর্থ দফা বন্যার পানি কমতে না কমতেই অবিরাম বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামে সব কটি নদ-নদীর পানি ফের বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পঞ্চম দফা বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে এ জেলায়। গতকাল দুপুরে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আবারও ধরলা নদীর পানি অনেক বেড়ে বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত চারদিন আগে চতুর্থ দফা বন্যায় জেলার প্রায় সাড়ে চার হাজার হেক্টর আবাদি জমির ফসল নিমজ্জিত হয়। নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টিতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ধরলা নদী অববাহিকার বাসিন্দা সেকেন্দার আলী বলেন, ‘আর কত বন্যা হবে? অনেক ক্ষতি হয়েছে। তিন-চারদিন আগে পানি বেড়ে বন্যা দেখা দেয়। ভেবেছিলাম, এটাই বুঝি শেষ বন্যা। বুধবার থেকে আাবারও ধরলার পানি বাড়া শুরু হয়েছে। আবার বন্যা হলে এত ক্ষতি সামলাব কেমন করে?’ এদিকে পানি বেড়ে চর ও দ্বীপচরসহ নিম্নাঞ্চলসমূহ প্লাবিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে নদনদীর পানি কমা-বাড়ার কারণে জেলার কয়েকটি পয়েন্টে নদীভাঙন চলছে। গত এক সপ্তাহে নদীভাঙনে গৃহহীন হয়েছে শত শত মানুষ। এখন জেলার উলিপুর, রাজারহাট, ভুরুঙ্গামারী ও সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি আরও কয়েক দিন বাড়বে বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম। লালমনিরহাট : তিস্তা, ধরলাসহ সব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে ফের প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। আগের বন্যার ধাক্কা সইতে না সইতে আবারও বন্যার মুখোমুখি এ জেলার নদী তীরবর্তী মানুষ। এদিকে ভাঙনে বিলীন গ্রামের পর গ্রাম। ভাঙনে বসতভিটা, আবাদি জমি হারিয়ে দিশাহারা তিস্তা ও ধরলাপাড়ের মানুষ। জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের সিঙ্গীমারী ও পাসাইটারী গ্রাম বিলীনের পর এখন ভাঙনের কবলে পড়েছে চৌরাহা গ্রাম। তিন দিনের ব্যবধানে গ্রামটির শতাধিক পরিবার তিস্তার করাল গ্রাসে বসতভিটা হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে। নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর