শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:২২

সারা দেশে দেওয়া হয় হোম সার্ভিস

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

সারা দেশে দেওয়া হয় হোম সার্ভিস

ইয়াবাসহ নানা মাদক বিক্রি হচ্ছে অ্যাপসভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহায়তায়। ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ, স্যাম্পল দেখানো, লেনদেনসহ সব কার্যক্রম চলছে প্রযুক্তির মাধ্যমে। অ্যাপসের মাধ্যমে অর্ডার করা মাদকের দেওয়া হচ্ছে হোম সার্ভিস। মাদক বেচাকেনায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই অনলাইনভিত্তিক ‘বিকিকিনি’।

চট্টগ্রাম মেট্রো মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতেই অনলাইনভিত্তিক বেচাকেনা শুরু করেছে মাদকচক্র। এরই মধ্যে দু-একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’ জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ীরা ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ নির্বিঘ্ন করতে এবং গ্রেফতার এড়াতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘বিকিকিনি’র সহায়তা নিচ্ছে। এ জন্য পরিচিত মাদক ক্রেতাদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ইমু এবং ফেসবুকে সিক্রেট গ্রুপ তৈরি করছে মাদকের পাইকারি ব্যবসায়ীরা। পরে ওই গ্রুপের মাধ্যমেই মাদকের ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। মাদকের স্যাম্পলের ভিডিও দেখানো, দরাদরি সবই হয় সিক্রেট গ্রুপের মাধ্যমে। ক্রেতার মাদক পছন্দ হলে টাকার লেনদেনও হয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। ক্রেতারা মাদক কেনার পর বাড়িতেই পৌঁছে দেওয়া হয়। ইয়াবা ছাড়াও গাঁজা, ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদক বিক্রি হয় অনলাইনভিত্তিক মাদক বিক্রির নতুন প্লেসে। সম্প্রতি মাদকের প্রযুক্তিনির্ভর বেচাবিক্রির সঙ্গে যুক্ত এক হোতাকে গ্রেফতার করে সিএমপির কোতোয়ালি থানা পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া ওই হোতা জিজ্ঞাসাবাদে অনলাইনভিত্তিক মাদকের বাজার নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয় পুলিশকে। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘গ্রেফতার হওয়া ওই ব্যক্তি কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসত। এরপর ওই মাদকের স্যাম্পল ভিডিও বিভিন্ন সিক্রেট গ্রুপে দিত। কারও পছন্দ হলে দরদাম করার পর হোম সার্ভিসের মাধ্যমে মাদকের চালান পৌঁছে দেওয়া হতো ক্রেতার পছন্দনীয় জায়গায়। দেশজুড়েই রয়েছে এ চক্রের তৎপরতা।’ ওসি নেজাম বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীতে খুচরাভাবে ইয়াবা বিক্রি হলেও পুরো দেশেই রয়েছে ওই চক্রের তৎপরতা। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ইয়াবার চালানগুলো সাধারণত এক হাজার পিস থেকে শুরু করে ৫০ হাজার পিস হতো।’


আপনার মন্তব্য