শিরোনাম
শনিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা
ঘন কুয়াশায় ফেরি বন্ধ

যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দুই পারেই

মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ী প্রতিনিধি

ঘন কুয়াশায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে  ৪ ঘণ্টা  ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় পাটুরিয়া প্রান্তে শত শত যানবাহন পারের অপেক্ষায় আটকে রয়েছে। এ নৌরুটে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে কুয়াশার তীব্রতা বাড়তে থাকে। রাত ৩টার দিকে কুয়াশার ঘনত্ব আরও বেড়ে যায়। দুর্ঘটনা এরাতে কর্র্তৃপক্ষ রাত ৩টায় ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়। কুয়াশার তীব্রতা কমে গেলে ৪ ঘণ্টা পর গতকাল সকাল ৭টায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ অবস্থার কারণে নৌরুটের দুই পারেই শত শত যানবাহনের জট লাগে। যা সারা দিন অব্যাহত ছিল। এদিকে ফেরি বন্ধ থাকায় যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথে পারাপার অব্যাহত রাখেন। বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে, রাত ৩টা থেকে ঘন কুয়াশার কারণে এ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এ সময় উভয় ঘাটে ফেরি নোঙর করে রাখা হয়। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় পাটুরিয়া ঘাটে শত শত যানবাহন পারের অপেক্ষায় আটকা পড়ে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস, অ্যাম্বুলেন্স, পচনশীল পণ্যের যানবাহন পারাপার করা হলেও দীর্ঘ সময় আটকে থাকে অন্য যানবাহন। জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ফেরি বন্ধ থাকার কারণে জরুরি প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে পদ্মা পাড়ি দিয়েছেন শত শত মানুুষ। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৪ ও ৫ নম্বর ফেরিঘাটে দেখা গেছে, প্রকাশ্যেই যাত্রী পারাপার করছেন ট্রলার মালিকরা। এতে করে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

গতকাল ভোরে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, ফেরিঘাটের ৫ নম্বর ঘাট দিয়ে প্রকাশ্যেই যাত্রী পারাপার করছিলেন ইঞ্জিনচালিত ট্রলার মালিকরা। প্রতিটি ট্রলারে অর্ধশতাধিক যাত্রী বহন করা হচ্ছিল। ফেরিঘাটে ট্রলার ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে পদ্মাপারের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে ট্রলারে ওঠার চেষ্টা করেন।

এ ঝুঁকি নেওয়ার ব্যাপারে ফরিদপুর থেকে গোল্ডেন লাইনে আসা যাত্রী মো. বারেক শেখ বলেন, রাত ৩টায় ফেরি বন্ধ হয়েছে। আমরা তার ৬ ঘণ্টা আগে দৌলতদিয়া এসে সিরিয়ালে আটকা পড়ি। মোট ৯ ঘণ্টা ঘাটে আটকে রয়েছি। ভোর হয়েছে। ফেরি কখন চলবে ঠিক নেই। তাই ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ট্রলার মালিক বলেন, মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। আমাদের কয়েকটি জায়গা ম্যানেজ করে ট্রলার চালাতে হয়।

গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. আক্কাস আলী বলেন, পদ্মায় ইঞ্চিনচালিত ট্রালারে যাত্রী পারাপারে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনের উচিত দ্রুত এগুলো বন্ধ করে দেওয়া। দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. জাকির হোসেন (পিপিএম) বলেন, ফেরি বন্ধ থাকার কারণে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে শত শত যাত্রী পারাপার হয়। আমরা অভিযান পরিচালনা করি। এক ঘাটে অভিযান করলে তারা অন্য ঘাট দিয়ে যাত্রী তোলে। যখন ঘাটে ট্রলার নামে তখন শত শত যাত্রী হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আমরা চেষ্টা করছি বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের।

 

সর্বশেষ খবর