শিরোনাম
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ২১:১২
আপডেট : ১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ২২:১৬

'লিজ গ্রহীতার কাছে রেলের বকেয়া প্রায় ১২৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা'

নিজস্ব প্রতিবেদক

'লিজ গ্রহীতার কাছে রেলের বকেয়া প্রায় ১২৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা'

১৯৭২ সালে বাংলাদেশ রেলেওয়ের ভূমির পরিমাণ ছিল ৬০ হাজার, ৪০৫.৮৫ একর এবং বর্তমানে ভূমির পরিমাণ ৬১ হাজার ৮২০.৩৫ একর। এসব ভূমির মধ্যে রেলের দখলে রয়েছে ৫৮ হাজার ৬০৬ দশমিক ৫৭ একর। সে হিসেবে প্রায় ৩ হাজার ৬১৪ একর জমি বেদখলে রয়েছে। তবে ১৯৭৫ সাল থেকে এই পর্যন্ত সময়ে লিজ দেয়া রেলের জমি বেহাত হয়নি। ২০০৬-০৭ অর্থ বছর থেকে গত ১৮-১৯ অর্থ বছর পর্যন্ত লিজ থেকে রেলওয়ে আয় করেছে ৪৫৯ কোটি ৩৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯০ টাকা। 

একাদশ সংসদের ষষ্ঠ ও চলতি বছরের প্রথম অধিবেশনের গতকালের বৈঠকে মোজাফফর হোসেনের (জামালপুর-৫) লিখিত প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রীর পক্ষে কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক সংসদে এসব তথ্য জানান। রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন সংসদে অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকাল সোয়া ৪টায় অধিবেশন শুরু হয়। 

লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী সংসদে জানান, ১৯৭৫ সাল থেকে রেলের জমি লিজ দেয়া হলেও সেগুলো বেদখল হয়নি। তবে, কিছু কিছু লিজ জমির শ্রেণি পরিবর্তন হয়েছে। লিজ গ্রহীতারা যথাসময়ে লাইসেন্স ফি পরিশোধ না করায় লিজ গ্রহিতাদের কাছে বকেয়া রয়েছে ১২৪ কোটি ৪৩ লাখ ৬৯ হাজার ১৯৬ টাকা। এসব খেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সরকারি পাওনা আইন, ১৯৯৩ অনুযায়ী সার্টিফিকেট মামলা দায়ের সাপেক্ষে আদায়ের পদক্ষেপ চলমান রয়েছে। 

শহীদুজ্জামান সরকারের এক প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রীর পক্ষে কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, ২০১৯-২০ অর্থ-বছরে এডিপিতে রেলওয়েতে ৩৩টি বিনিয়োগ প্রকল্প ৩টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্পসহ ৩৬টি উন্নয়ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রেলের আওতায় ৫৫০টি মিটারগেজ ও ১৫০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ এবং ১০০টি মিটারগেজ ও ৪০টি ব্রডগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ ক্রয়-সংগ্রহ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ঢাকা-কিশোরগঞ্জ বিশেষ রেল সার্ভিস দ্রুত চালু হবে: জাতীয় পার্টির এমপি মুজিবুল হক চুন্নুর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রীর পক্ষে আবদুল রাজ্জাক বলেন, ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত একটি বিশেষ রেল সার্ভিস দ্রুত চালু হবে। 

বিএনপির সংরক্ষিত এমপি রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদেশী দাতা সংস্থাদের প্রেসক্রিপশান অনুযায়ী বিএনপি-জামায়াত (২০০১-০৬) জোট সরকার রেল বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সরকারের পট পরিবর্তনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে রেলকে রক্ষা করে। বর্তমানে এর ক্ষেত্র বেড়েছে। তবে, লাভ-অলাভজনক বিবেচনায় এটি আকস্মিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে বেসরকারিখাতে ছেড়ে দেয়া সঠিক হবে না। তবে বিমানকে বেসরকারিখাতে লিজ দেয়া হয়েছে। 

বিএনপির হারুনুর রশীদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রীর পক্ষে কৃষিমন্ত্রী আবদুল রাজ্জাক বলেন, রেলের পতিত জমিগুলোকে খাস খতিয়ানভুক্ত করে সেখানে থেকে সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান করার জন্য বিশেষভাবে লিজ দেয়ার বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে। 

বিএনপির এমপির এই প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, আপনারা নিয়মিত সংসদে এসে এমন গঠনমূলক প্রস্তাব দিলে জনগণ উপকৃত হয়। কিন্তু আপনারা তো সংসদে আসেন না। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এলেন না। সংসদে এলে জনগণের পক্ষে কথা বললে আপনারাই লাভবান হতেন। 

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

close