প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ২১:০৫

'আগামী বছরের জুনে পদ্মা সেতু ও ১৬ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের উদ্বোধন'

নিজস্ব প্রতিবেদক

'আগামী বছরের জুনে পদ্মা সেতু ও ১৬ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের উদ্বোধন'

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অগ্রাধিকার প্রাপ্ত মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। ২০২১ সালের জুন মাসে পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল সম্পূর্ণ অংশ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এছাড়া ১৯ দশমিক ৮৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের প্রথম আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল নির্মিত হতে যাচ্ছে বিমানবন্দর হতে কমলাপুর পর্যন্ত।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে একাদশ সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে মঙ্গলবার টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে দিদারুল আলমের (চট্টগ্রাম-৪) লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান। 

সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি তুলে ধরে আরও বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি প্যাকেজের মধ্যে মাওয়া সংযোগ সড়ক, জাজিরা সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়া-২ এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মূল সেতু এবং নদী শাসন কাজের ভৌত অগ্রগতি যথাক্রমে ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ৬৬ শতাংশ। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ। পদ্মা সেতুর ৪১টি স্টিল ট্রাসের মধ্যে ২০টি ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। বাকী ২১টি আগামী জুলাই মাসের মধ্যে স্থাপন করা হবে।

মেট্রোরেল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ৬টি মেট্রোরেল সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। উত্তরা ৩য় পর্ব হতে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাশ্রয়ী পরিবেশ বান্ধব ও বিদ্যুৎ চালিত এমআরটি-৬ উড়াল মেট্রোরেল নির্মাণ কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সার্বিক গড় অগ্রগতি ৪০ দশমিক ২ শতাংশ। এতে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় হবে। ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহনে সক্ষম হবে। 

ওবায়দুল কাদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি-৬ বর্ধিত করার জন্য মাটির সমীক্ষা চলছে। এ অংশের দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার। 

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে মেট্রোরেলের ৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট দৃশ্যমান হয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন বর্ষে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল সম্পূর্ণ অংশ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। উড়াল ও পাতাল মেট্রোরেলের সমন্বয়ে ৩১ দশমিক ২৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট লাইন-১ এর কাজও পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এমআরটি লাইন-১ দুটি অংশে বিভক্ত। এর একটি হচ্ছে ১৯ দশমিক ৮৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্ডারগ্রাউন্ড বিমানবন্দর রুট (বিমানবন্দর হতে কমলাপুর) এবং ১১ দশমিক ৩৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড পূর্বাচল রুট (নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল ডিপো) বিমানবন্দর রুটেই বাংলাদেশে প্রথম আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল নির্মিত হতে যাচ্ছে।

সড়কমন্ত্রী জানান, প্রথম পর্যায়ে উত্তরা তৃতীয় পর্ব হতে আগারগাঁও অংশের অগ্রগতি ৬৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। দ্বিতীয় পর্যায়ে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের অগ্রগতি ৩৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল সিস্টেম এবং রোলিং স্টক (রেলকোচ) ও ডিপো ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ কাজের সমন্বিত অগ্রগতি ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। 

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম


আপনার মন্তব্য