শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:১৫
আপডেট : ১৯ এপ্রিল, ২০২১ ১০:৫৭
প্রিন্ট করুন printer

‘অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা নিয়ন্ত্রণেই যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ’

শফিক আহমেদ

‘অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা নিয়ন্ত্রণেই যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ’

চলমান সর্বাত্মক লকডাউনের ৫ম দিন আজ রবিবার এলিফ্যান্ট রোডে এক নারী চিকিৎসক ও পুলিশের বাদানুবাদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এলিফ্যান্ট রোডে পুলিশ চেকপোস্টে এক নারী চিকিৎসক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

এদিকে, এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিজ (এফডিএসআর)। রবিবার এফডিএসআরের মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং চেয়ারম্যান ডা. আবুল হাসনাৎ মিল্টন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া লকডাউনের প্রথম দিনেই প্রচুর সংখ্যক চিকিৎসক ডিউটিতে যাবার পথে একাধিক স্থানে পুলিশ কর্তৃক হেনস্তার শিকার হবার প্রেক্ষিতে এফডিএসআরের প্রতিবাদের মুখে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ ধরনের হয়রানি বন্ধের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি যে, একদল পুরুষ পুলিশ একজন নারী চিকিৎসককে প্রকাশ্য রাজপথে হেনস্তা করছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ডাক্তাররা যখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সম্মুখ সারিতে লড়ছে, হাসপাতালে অসংখ্য কোভিড রোগীর চিকিৎসা শেষে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফেরার পথে পুলিশ ডা. সাঈদা শওকত জেনির গাড়ি থামিয়ে তার কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চায়। এসময়ে নিজের পরিচয় ও গাড়িতে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক কর্তৃক ইস্যুকৃত মুভমেন্ট পাশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সম্বলিত স্টিকার ও বিএসএমএমইউর লোগোসহ ডাক্তারের নামাঙ্কিত অ্যাপ্রন দেখালে সবকিছুকে ভুয়া বলে পুলিশ ডা. জেনিকে চরমভাবে উত্যক্ত করে। 

এর মাধ্যমে পুলিশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও চিকিৎসক সমাজকেও হেয় করেছে। এই ঘটনার কোন ভিডিও করা হয়নি। অথচ ডা. জেনিকে হেনস্তা করার মাধ্যমে উত্তেজিত করে ঘটনার আংশিক ভিডিও করা হয়েছে। যেখানে আমরা দেখেছি, পুলিশ ডা. জেনির কাছে অন্যায়ভাবে মুভমেন্ট পাশ চেয়েছে। অথচ ডাক্তারদের মুভমেন্ট পাশ লাগবে না বলে ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা আরও দেখেছি, পতিতাবৃত্তির পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত পাপিয়ার সাথে পুলিশ ডা. জেনির তুলনা করেছে, যা একজন নারী চিকিৎসকের জন্য চরম অবমাননাকর। 

অন্যদিকে, এ ঘটনা প্রসঙ্গে ডিএমপির এডিসি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইফতেখায়রুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, 'ঘটনার সময় ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট চিকিৎসকের কাছে তার পরিচয়পত্র দেখতে চেয়েছিলেন। পুলিশ মহামারীর এই দুঃসময়ে দেশজুড়ে সর্বাত্মক লকডাউন চলাকালে জনগণের সুরক্ষায় কাজ করছে।’

তবে চিকিৎসকে কেন চেকপোস্টে বাধাপ্রাপ্ত হতে হলো এমন প্রশ্নের উত্তরে এডিসি ইফতেখায়রুল বলেন, ‘সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনে বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে জরুরি পরিষেবার আওতায় ১৮টি ক্যাটাগরিতে যাদের কথা বলা হয়েছে- তার বাইরেও বিক্ষিপ্তভাবে মানুষ নির্দেশনা মানছেন না। চেকপোস্টে এমনও দেখা গেছে জরুরি পরিষেবার কথা বলে বাইরে বের হয়েছে অথচ তারা এর আওতাধীন না। এতে জনগণের স্বার্থেই চেকপোস্ট বসিয়ে কাজ করতে হচ্ছে পুলিশ-প্রশাসনকে। অর্থাৎ অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা নিয়ন্ত্রণেই যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।’

তিনি আরও বলেন, “আইজিপি স্যার একটা কথা বলেছেন- ‘যখন কোনো নিয়ম প্রনয়ণ করা হয় তখন আমরা জনগণকে তা মানতে বাধ্য করতে চাই না। আমরা চাই জনগণই সচেতনভাবে তা মেনে চলুক।’ তো এই লকডাউনে পুলিশ যে চোকপোস্ট বসিয়ে কাজ করছে তা জনগণের সুরক্ষার জন্যই। সেই জায়গা থেকে আইন অনুযায়ী একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করেছে।”

ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, ‘সর্বাত্মক লকডাউন নিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনেও এ বিষয়টা স্পষ্ট করে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে জরুরি পরিষেবার আওতায় যারা বাইরে বের হবেন তাদের অবশ্যই পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে।’

বিডি-প্রতিদিন/শফিক

এই বিভাগের আরও খবর