শিরোনাম
প্রকাশ : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০১:০৪
আপডেট : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১০:১৪
প্রিন্ট করুন printer

অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি আজকালের মধ্যেই

উবায়দুল্লাহ বাদল

অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি আজকালের মধ্যেই
প্রতীকী ছবি
Google News

সরকারের অনুমোদিত অতিরিক্ত সচিবের সংখ্যা মাত্র ২১২। অথচ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ওই পদে কর্মকর্তার সংখ্যা রয়েছে ৪১৬ জন। অর্থাৎ পদের চেয়ে দ্বিগুণ কর্মকর্তা বর্তমানে। তারপরও প্রশাসনে বিসিএস ১৯৮৪ ব্যাচ থেকে ১৩তম ব্যাচ পর্যন্ত সাতটি ব্যাচে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিযোগ্য যুগ্ম সচিবের সংখ্যা ৩৮৬ জন। এর মধ্য থেকে ১০০-এর বেশি কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেলে ও বড় ধরনের কোনো অঘটন না ঘটলে আজ-কালের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।  

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া চলছে’। তবে কতজনকে পদোন্নতি দেওয়া হবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি তিনি।

জানা গেছে, বর্তমানে সরকারের সচিবরা হলেন বিসিএস ১৯৮৪ ব্যাচ থেকে শুরু করে দশম ব্যাচের কর্মকর্তা। এসব ব্যাচের কমবেশি ১০০ কর্মকর্তা এখনো প্রশাসনে যুগ্ম সচিব হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। নানা কারণেই তাদের পদোন্নতি হয়নি। এ ধরনের কর্মকর্তা রয়েছেন বিসিএস ১৯৮৪ ব্যাচের একজন, বিসিএস ১৯৮৫ ব্যাচের (৭ম ব্যাচ) ২৮ জন, বিসিএস ১৯৮৬ ব্যাচের (৮ম ব্যাচ) ২৬ জন, বিসিএস নবম ব্যাচের ১৬ জন, দশম ব্যাচের ২৯ জন এবং ১১তম ব্যাচের ৫৭ জন। এর বাইরে প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে সদ্য যুক্ত হওয়া ইকোনমিক ক্যাডারের ২৮ জন এবং অন্যান্য ক্যাডারের ৬৫ জন কর্মকর্তা অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। 

আর যাদের জন্য পদোন্নতির আয়োজন, সেই নিয়মিত ১৩তম ব্যাচের ১৩৬ জন কর্মকর্তা তো রয়েছেনই। ফলে নিয়মিত ব্যাচসহ পুরনো ছয় ব্যাচের ২৫০ জন মিলে মোট পদোন্নতি প্রত্যাশী কর্মকর্তার সংখ্যা ৩৮৬ জন। এর মধ্য থেকে নিয়মিত ১৩তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে আগে পদোন্নতি না পাওয়া কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫০ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আভাস দিয়েছেন। তবে সবকিছুই চূড়ান্ত হবে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী। ফলে এ সংখ্যা কমবেশি হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি হয়েছিল ৯৮ জন কর্মকর্তার। নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে ১৩তম ব্যাচ থেকে পদোন্নতি পেয়েছিলেন মাত্র ৬৭ জন। এ ব্যাচের যেসব কর্মকর্তা ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর যুগ্ম সচিব হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অতিরিক্ত সচিব হওয়ার জন্য ১২২ জন যোগ্য ছিলেন। এর মধ্যে ৮৮ জনকে বিবেচনায় নিলেও বাকি ৩৪ জনকে পদোন্নতির জন্য শেষ পর্যন্ত বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। 

গত বছর অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিতে ২০০-এর বেশি কর্মকর্তা বঞ্চিত হয়েছিলেন বলে দাবি ছিল ভুক্তভোগীদের। এদের মধ্যে বিসিএস ১৯৮৫ ও ১৯৮৬ ব্যাচ এবং নবম, দশম ও ১১তম ব্যাচের বঞ্চিতদের অনেকে রিভিউ আবেদন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পেতে আবেদনে প্রত্যেকে তাদের সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা, সৃজনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার কথা উল্লেখ করেন। এমনকি নিজেকে আওয়ামী লীগ সরকারের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করতে স্থানীয় এমপি, মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতার ডিও (আধা সরকারিপত্র) দেন কেউ কেউ।

বঞ্চিতদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও গত বছর আমাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। কেন বাদ দেওয়া হয়েছিল তা আমাদের জানানো হয়নি। আমরা জানিও না কেন আমরা বাদ পড়েছিলাম। এ কারণে সামাজিকভাবেও আমাদের হেয় হতে হয়েছে। নিজ পরিবার-পরিজনের কাছে লজ্জায় মুখ দেখাতে পারিনি। এবার আমরা আশায় বুক বেঁধে আছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় আমাদের কষ্ট বুঝবেন। তিনি নিশ্চয় এবার আমাদের পদোন্নতি দিয়ে কষ্ট লাঘব করবেন।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত

এই বিভাগের আরও খবর