৩১ জুলাই, ২০২২ ১৯:১১

অরক্ষিত রেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড: আ স ম রব

নিজস্ব প্রতিবেদক

অরক্ষিত রেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড: আ স ম রব

সারাদেশে রেলক্রসিং অরক্ষিত রেখে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়  প্রাণহানি মূলত হত্যাকান্ড উল্লেখ করে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব গণমাধ্যমে নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেন।

সারা বিশ্বে রেলপথ নিরাপদ হলেও বাংলাদেশে লেভেলক্রসিং অরক্ষিত থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। ফলে লেভেলক্রসিংগুলো যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। অরক্ষিত রেল ক্রসিং এ অসংখ্য মৃত্যুতে উন্নয়নের 'রোল মডেল'  প্রতিফলন হয় না।

শুধুমাত্র গত সাত মাসে রেলপথে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৭৮ জন আর আহত হয়েছে ১ হাজার ১৭০ জন। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে জানা যায় রেলপথে দুই হাজার ৮৫৬টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ এক হাজার ৩৬১টি। সে হিসেবে প্রায় ৪৮ শতাংশ অবৈধ। এছাড়াও বৈধ লেভেলক্রসিং গুলোর মধ্যে ৬৩২টিতে গেটম্যান নেই। দেশে ৮২ শতাংশ রেলক্রসিং অনিরাপদ।

তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রে অরক্ষিত লেভেলক্রসিং থাকবে আর প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় মানুষ নিহত হবে এটা সভ্য দেশে চিন্তাও করা যায় না। রেলক্রসিংগুলোতে নিরাপদ সুরক্ষায় কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় সকল হত্যাকাণ্ডের দায় সরকারকে বহন করতে হবে।

অরক্ষিত রেলক্রসিং এ অসংখ্য প্রাণ ঝরে যাওয়ার পরও সরকার কোন জোরালো পদক্ষেপ নেয় না বরং প্রতিটি দুর্ঘটনার পর লোক দেখানো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নের কোন পদক্ষেপও নেয়া হয় না, এমনকি দুর্ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির আওতায়ও আনা হয় না। রেল কর্তৃপক্ষ রেলক্রসিং এ সংঘঠিত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির কোন তথ্যও সংগ্রহ করে না।

অতি দ্রুত রেলক্রসিং এর মরণ ফাঁদ বন্ধ করার জন্য:
১) বৈধ অবৈধ  সকল ধরনের অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং নিরাপদ করতে হবে। রেল ক্রসিং এ প্রাণহানির দায়ে শাস্তির বিধান করতে হবে।
২) সকল লেভেল ক্রসিং এ প্রয়োজনীয় গেটম্যান নিয়োগ করতে হবে। গেটকিপার পদ  স্থায়ী করতে হবে।
৩) প্রত্যেক রেল ক্রসিং এ শক্তিশালী 'গেটবার' বা 'পথরোধক' স্থাপন করতে হবে। রেল ক্রসিংয়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।
৪) দুর্ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং রেলের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দায় নির্ধারণ করতে হবে। রেল ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
৫) গেটম্যানদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে কর্তৃপক্ষর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
৬) যানবাহন চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে হবে।
৭) সড়কে প্রাণহানির দায়ে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। 
৮) নিরাপদ সড়ক ও রেলপথ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।  

তিনি বলেন, রেললাইনের অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং এ মরণফাঁদ রেখে 'নিজ দায়িত্বে রাস্তা পার হন' এই সতর্ক বাণী উচ্চারণ করে  সরকার দায় এড়ানোর কোন সুযোগ গ্রহণ করতে পারে না। জনগণের প্রাণ নিরাপদ রাখাই সরকারের মৌলিক কর্তব্য, এ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোন অবকাশ সরকারের নেই।

বিডি প্রতিদিন/এএ

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর