শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ জুন, ২০২১ ১০:১৯
প্রিন্ট করুন printer

জাতিসংঘে রেজুলেশন

মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা এবং গণতান্ত্রিক শাসন চালুর দাবি

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা এবং গণতান্ত্রিক শাসন চালুর দাবি
ফাইল ছবি
Google News

মিয়ানমারের সামরিক শাসনের দ্রুত অবসান এবং গ্রেফতারকৃতদের নি:শর্তে মুক্তি প্রদানের পাশাপাশি আন্দোলনরতদের হত্যা বন্ধের দাবিতে ১৮ জুন শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি রেজুলেশন পাশ হয়েছে। এই রেজুলেশনে সামরিক জান্তার কঠোর নিন্দা এবং তিরস্কারের পর ওদেরকে একঘরে করার উদাত্ত আহবান জানানো হয়েছে গণতান্ত্রিক বিশ্বের প্রতি। শুধু তাই নয়, মিয়ানমারে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার কথাও বলা হয়েছে। সামরিক অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বিরাট একটি জনগোষ্ঠিকে নিদারুণ অর্থ-কষ্টে নিপতিত করা হয়েছে। খাদ্যাভাবে পড়া লোকজনকে সাহায্য-সহযোগিতাও করা সম্ভব হচ্ছে না। এহেন অমানবিক পদক্ষেপ বন্ধের অনুরোধও জানানো হয়েছে। 

১৯৩ সদস্যের এই বিশ্বসংস্থার ১১৯ দেশ রেজুলেশনের পক্ষে এবং একটি মাত্র দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। ভোটের সময় অনুপস্থিত ছিলেন ৩৬ দেশের প্রতিনিধি এবং উপস্থিত থেকেও ভোট দানে বিরত ছিলেন ৩৭ দেশের প্রতিনিধি। এরফলে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার নিন্দা এবং বর্জনের জন্যে নিরঙ্কুশ অথবা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের যে প্রত্যাশা করা হয়েছিল সেটি পূরণ হয়নি বলে কূটনীতিকরা মন্তব্য করেছেন। তবে ১ ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে এটি একটি জোরালো বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের একটি অগ্রগতি বলেই মনে করা হচ্ছে। 

উল্লেখ্য, রেজুলেশনের পক্ষে ভোট প্রদানকারিগণের মধ্যে মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি কিয়াও মো টুনও রয়েছেন। তিনি সামরিক জান্তার পক্ষে নির্দেশ অনুযায়ী পদত্যাগ না করে অভ্যুত্থানের ভিকটিম সরকারের পক্ষেই কাজ করছেন। রেজুলেশনের বিপক্ষে একমাত্র ভোট দিয়েছে বেলারোসের স্থায়ী প্রতিনিধি। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, ভোটের অনুপস্থিত রাষ্ট্রের প্রতিনিধির মধ্যে চীনও ছিল। গণতান্ত্রিক বিশ্বের তিরস্কারের মুখে পড়ার আশংকায় চীন ভোটের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে।
 
৫ বছর কার্যকালের প্রথম মেয়াদ শেষে শুক্রবারই দ্বিতীয় মেয়াদের জন্যে পুনরায় নির্বাচিত মহাসচিব এ্যান্তোনিয়ো গুতেরেজ মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট অচলাবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করে সাধারণ পরিষদে উপরোক্ত রেজুলেশনের প্রাক্কালে বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি বিশ্বে অবস্থান করতে চাই না যেখানে সামরিক অথ্যুত্থান একটি স্বাভাবিক ব্যাপার বলে মনে হতে পারে। এমন অবস্থা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

রেজুলেশন গৃহিত হবার পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের জাতিসংঘস্থ ডেলিগেশন টিমের প্রতিনিধি ওলোফ স্কুজ। তিনি বলেন, ‘এই রেজ্যুলেশন খুবই কঠিন ও জোরদার মেসেজ দিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে। সামরিক শাসকের অগ্রহণযোগ্যতা এবং গণতান্ত্রিক চেতনায় উজ্জীবিতদের নির্যাতনের প্রতিবাদ ছাড়াও আন্দোলনরতদের দমনের নামে নৃশংসতার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এই রেজুলেশনের মধ্যদিয়ে। শুধু তাই নয়, সামরিক জান্তাকে বর্জনের স্পষ্ট ঘোষণাও রয়েছে ঐ রেজুলেশনে।’

রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে বর্বরোচিত হামলার মাধ্যমে গৃহত্যাগে বাধ্য করার মধ্যদিয়ে বিগত বছরগুলোতে মিয়ানমারে চলমান সামাজিক অস্থিরতার সুযোগে গণতন্ত্রে পরিপূর্ণভাবে ফেরার সময়েই আবারো সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে মিয়ানমারে।  

ইতিহাসবিদরা বলেছেন, শীতল যুদ্ধের পর এটি হচ্ছে চতুর্থ রেজুলেশন যেখানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কোন দেশের সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা এবং সামরিক জান্তাকে একঘরে করার ঘটনা ঘটেলো। অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার আহবান জানানোর রেজুলেশন এই প্রথম করলো জাতিসংঘ। জাতিসংঘে গৃহিত রেজুলেশনের পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের কোন বাধ্যবাধকতা না থাকলেও সামরিক জান্তার প্রতি এটি চপেটাঘাতের সামিল। বিশেষ করে সামরিক আইনের আড়ালে সেনা শাসকেরা দায়বদ্ধতার ঊর্ধ্বে থাকার যে ঘোষণা দিয়েছে, সেটিও এখন অকার্যকর হয়ে পড়বে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিন্দা, প্রতিবাদ আর র্ভৎসনার পরিপ্রেক্ষিতে। এমন সমালোচনা ও তিরস্কারের ফলে সামরিক জান্তা অবাধে সবকিছু চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে না। 

এই রেজুলেশনে অবিলম্বে জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার, মিয়ানমারের নাগরিকদের মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানানো এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিতদের ক্ষমতা গ্রহণের পরিবেশ তৈরীর আহবান জানানো হয়েছে। অং সান সু চিসহ প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট এবং অন্য রাজনীতিকদের বিনাশর্তে মুক্তির দাবি ছাড়াও অকারণে আটকদের মুক্তি এবং জারিকৃত গ্রেফতারী পরোয়ানা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহবান জানানো হয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন  

এই বিভাগের আরও খবর