অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে চলে জুয়ার বিজ্ঞাপন। যা তরুণ প্রজন্মের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার উসমান খাজা। যার কারণে এই সব জুয়ার বিজ্ঞাপন বন্ধের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সরকারের কাছে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
খাজা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সরকার জুয়ার বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করতে ‘শতভাগ বেশি দেরি’ করেছে। তরুণ প্রজন্মের কল্যাণে খেলাধুলা থেকে জুয়ার সম্পর্ক ছিন্ন করা এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মনে করেন।
খাজা ক্যানবেরার পার্লামেন্ট হাউসে কয়েকজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য, জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞকে সঙ্গে নিয়ে পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৮৪ টেস্ট খেলা এই ওপেনার বলেন, ‘ছোট ছোট বাচ্চার সঙ্গে জুয়ার যে সম্পর্ক গড়ে উঠছে, তা ভয়ংকর ও বিপজ্জনক। আমরা জুয়াকে নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাভাবিক বিষয় বানিয়ে ফেলছি।’
বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের দাবি, অনেক তরুণই জুয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে আর বিষয়টি সংশোধনে দ্রুত উদ্যোগ জরুরি।
জুয়ার বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন খাজা, ‘আমি এনআরএল (ন্যাশনাল রাগবি লিগ) ম্যাচ দেখতে বসলে খেলাটি শুরু হওয়ার আগেই জুয়ার অডস (বাজির হার) চোখে পড়ে। আমি যখন গ্রেড ক্রিকেট খেলি, দেখি উঠতি খেলোয়াড়দের মধ্যে ১৬ বছর বয়সীরাও বাজির অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলেছে। বাজি না ধরলে তারা খেলা দেখতে পারে না।’
সরকারের কাছে তার প্রত্যাশা কী জানতে চাইলে খাজা বলেন, ‘খেলার মাঠ থেকে জুয়া নিষিদ্ধ করতে হবে, খুবই সরল বিষয়। একেবারে ধূমপানের মতোই বন্ধ করে দিতে হবে। আমাদের দায়িত্ব আছে। যদি খেলাধুলা আর অ্যাথলেটদের সঙ্গে জুয়ার সম্পর্ক বারবার প্রচারিত হয়, যদি দেখানো হয় যে জুয়া ছাড়া খেলা দেখা যায় না, তাহলে এটা ভয়াবহ দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে।’
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান অস্ট্রেলিয়া’ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ ও অর্থমন্ত্রী জিম চালমার্সের সঙ্গে বৈঠক করেছেন খাজা।
খাজাকে বন্ধু হিসেবে আখ্যা দিয়ে চালমার্স বলেন, ‘খাজা একজন মানবতাবাদী। খাজার প্রতি আমাদের অনেক শ্রদ্ধা আছে। তিনি যে বিষয়গুলো তুলেছেন, আমরা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। তার অবদান আমি খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি। তিনি আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য যে সময় দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
এর আগেও খাজা আরেকটি সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন। সেখানে তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক রাগবি তারকা ডেভিড পোকক, লেবার এমপি এড হুসিক এবং স্বতন্ত্র এমপিদের কয়েকজন। তারা একসঙ্গে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছিলেন ইসরায়েলের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে এবং গাজায় যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিনি বেসামরিক লোকজনের মৃত্যুর ঘটনায় দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম