Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট, ২০১৮ ১৪:৩৫ অনলাইন ভার্সন
ভোগান্তিতেই ঢাকায় ফিরছে মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোগান্তিতেই ঢাকায় ফিরছে মানুষ
নানা ভোগান্তির মধ্য দিয়েই গতকাল ট্রেনে ঢাকায় ফিরেন মানুষ। ছবিটি গতকাল কমলাপুর থেকে তোলা -বাংলাদেশ প্রতিদিন
bd-pratidin

ঈদ এবং সাপ্তাহিক ছুটি শেষে কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। গতকাল ঢাকার রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল এবং লঞ্চঘাটে ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের ভিড়। প্রতিবেদনে সহায়তা করেছেন আমাদের প্রতিনিধিরা।

কমলাপুর রেলস্টেশনে সরেজমিন দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলোতে ছিল যাত্রীদের ভিড়। ঈদের আগে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটের অধিকাংশ ট্রেন কয়েক ঘণ্টা করে দেরিতে ছাড়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল। ফেরার পথেও তাদের একই অভিজ্ঞতা হচ্ছে। রাজশাহীর ধূমকেতু এক্সপ্রেস ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে কমলাপুর আসার কথা থাকলেও পৌঁছেছে তিন ঘণ্টা ৫০ মিনিট দেরিতে। খুলনার সুন্দরবন এক্সপ্রেস ৫টা ৪০ মিনিটের বদলে স্টেশনে পৌঁছেছে সকাল সাড়ে ৮টায়। চিলাহাটির নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৭টা ১০ মিনিটে আসার কথা থাকলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা দেরিতে বেলা ১টায় স্টেশনে আসে।

ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, প্রতিটি স্টেশন থেকেই প্রচুর যাত্রী উঠছে। ফলে ট্রেন সময়মতো ছাড়তে পারছে না। আবার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ট্রেনগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলতেও পারে না। এ কারণে ঢাকায় পৌঁছতে দেরি হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গের যাত্রীরা সড়কপথে মোটামুটি স্বস্তিতে পৌঁছলেও দুর্ভোগে পড়েছেন দক্ষিণ জনপদের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকার পথে রওনা হওয়া বাসযাত্রীরা। নাব্য সংকটের কারণে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় পদ্মার দুই তীরে আটকে আছ প্রায় সাড়ে চারশ যানবাহন। ঘাট কর্তৃপক্ষ চালকদের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবহার করার পরামর্শ দিলেও গাড়ির চাপে সেখানেও জট তৈরি হয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফেরিঘাটে দীর্ঘ সময় যানজটে পড়ে দক্ষিণের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যাত্রীরা ঢাকা পৌঁছাচ্ছেন নির্ধারিত সময়ের বেশ কয়েক ঘণ্টা পরে। সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শিমুলিয়া ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ রয়েছে। তাদের ঢাকায় ফিরতে অতিরিক্ত বাস পাঠানো হয়েছে। রাজধানীর লঞ্চঘাটে যাত্রীদের আনাগোনা ছিল স্বাভাবিক। তবে রাতে ফেরা লঞ্চগুলোতে ছিল বেশ ভিড়। এমভি আওলাদ লঞ্চের মহাব্যবস্থাপক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা আওলাদ-৭ গতকাল ভোরে সদরঘাটে পৌঁছেছে। যাত্রী মোটামুটি ছিল। আশা করছি আগামীকাল আরও বেশি যাত্রী আসবে। খুলনা : ঈদের ছুটি শেষে খুলনায় বাস ও রেলস্টেশনে রাজধানীমুখী যাত্রীদের চাপ ছিল বেশি। খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, আগামী ১০ দিনের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। মানুষের চাপ সামলাতে নিজের কক্ষ ছেড়ে তাকে অন্য জায়গায় বসে অফিস করতে হচ্ছে। খুলনায় দূরপাল্লার বাসের টিকিট পাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ পরিবহনে আগামী ৩-৪ দিনের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। তবে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে বাস কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। অবশ্য টিকিটের বাড়তি দামের বিষয়টি অস্বীকার করেন বাস মালিক-কর্মচারীরা। শিববাড়ি মোড় ঈগল পরিবহনের টিকিট কাউন্টার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শুধু অগ্রিম টিকিটের জন্য দাম একটু বেশি রাখা হচ্ছে। জানা যায়, এসি টিকিটের দাম ১২শ টাকা হলেও ঈদে যাত্রীদের চাপের কারণে অগ্রিম টিকিট ১৬শ টাকা রাখা হচ্ছে। চেয়ার কোচের ভাড়া ৫৫০ টাকার পরিবর্তে অগ্রিম টিকিট রাখা হচ্ছে ৬২০ টাকা। মাদারীপুর : ঈদের ছুটি শেষে গতকাল সকাল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের ঢল নামে মাদারীপুর শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ঘাটে। যাত্রী চাপ বেশি থাকায় ঘাটের লঞ্চগুলো অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, নদীতে ড্রেজিং চলমান থাকায় এই নৌরুটে শনিবার রাত ১১টা থেকে রবিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত সব ধরনের ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী ও চালকরা।  পরীক্ষামূলকভাবে শুধু যাত্রী নিয়ে কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাট থেকে শিমুলিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া কিশোরী নামের একটি ফেরি লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে ডুবোচরে আটকা পড়ে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় চেষ্টা করে ডুবোচরের হাত থেকে রক্ষা পেলেও ফেরিটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ী ফেরি ঘাটের ব্যবস্থাপক আবদুস সালাম মিয়া জানান, এ সংকট দূর করতে কয়েকটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে দ্রুত খনন কাজ চলছে। নাব্য সংকটের কারণে শুধু কে-টাইপ ও মিডিয়াম ফেরি অল্প যানবাহন নিয়ে চলাচল করছে। বরগুনা : বরগুনা থেকে ঢাকাগামী লঞ্চে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ঈদের পরে ফিরতি পথে লঞ্চে ধারণক্ষমতার তিন থেকে চারগুণ যাত্রী নিয়ে বরগুনা লঞ্চঘাট থেকে ছেড়ে গেছে ঢাকাগামী দোতলা লঞ্চ। যুবরাজ-৪ লঞ্চে যাত্রী উঠার সময় লঞ্চের রশি ছিঁড়ে যাত্রী ছগির হোসেনের (৩০) পা ভেঙে গেছে। ওই যাত্রীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। দুপুর ১২টার দিকে বরগুনা লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে এমভি সাতিল আরব, এমভি যুবরাজ-৪ ও এমভি সুন্দরবন-২, এমভি রাসেল-১ এই ৪টি লঞ্চই ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হতে দেখা যায়। বরগুনার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ারুল নাসের বলেন, কোনো লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী নিতে দেওয়া হবে না।

আপনার মন্তব্য

up-arrow