চলমান ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নিরাপত্তা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। টুর্নামেন্টটির অর্ধেক পথ পেরোতেই আয়োজক দেশগুলোর ভেন্যু ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ১ হাজার ১০০-র বেশি অননুমোদিত ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও নিরাপত্তা বাহিনী সফলভাবে ৩০০টিরও বেশি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করেছে।
আজ সোমবার ওয়াশিংটনের কাছে এফবিআই আয়োজিত আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ বিষয়ক কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জুলিয়ানি জানান, গত রবিবার রাত পর্যন্ত বিশ্বকাপ ভেন্যু এবং এর সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোট ১ হাজার ১৩৯টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। তবে কোনো ধরনের শক্তি প্রয়োগ বা ধ্বংসাত্মক পদ্ধতি ছাড়াই এগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয় নিরাপত্তা কর্মীরা। যদিও সুরক্ষার স্বার্থে ড্রোনগুলো নিষ্ক্রিয় করার সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত কৌশল প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, বিশ্বকাপের নিরাপত্তা সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা এফবিআই-এর বিশেষ এজেন্ট ডগ অলসন জানিয়েছেন, তদন্তের অংশ এবং আইনি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের জন্য ইতিমধ্যেই ৫০০-র বেশি ড্রোন জব্দ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে এবারই প্রথম ৪৮টি দলের এই মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর এই আসরকে নিশ্ছিদ্র রাখতে কয়েক শত মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে অত্যাধুনিক ড্রোন শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে মার্কিন প্রশাসন। অননুমোদিত ড্রোন জ্যাম বা আটকে দেওয়ার জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি আয়োজক শহরের কয়েক ডজন পুলিশ কর্মকর্তাকে এফবিআই-এর বিশেষ কেন্দ্রে কাউন্টার-ড্রোন অপারেশনের ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বড় বড় ক্রীড়া ও রাজনৈতিক ইভেন্টে ড্রোন হামলা বা অনুপ্রবেশের ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি জুনের শুরুতেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত একটি মিক্সড মার্শাল আর্টস ফাইট নাইটকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলার একটি পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয় এফবিআই। এর আগে ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকেও সাড়ে তিনশর বেশি অননুমোদিত ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছিল, যার জেরে ৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবারের বিশ্বকাপে ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা পূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ