গত দুই দশকেরও বেশি সময় লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ফুটবল দুনিয়াকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিলেন। এ দুজনের লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ছড়িয়েছে দারুণ উন্মাদনা। রেকর্ড বুকে একের পর এক নতুন সংখ্যা যোগ করেছেন দুজন। ফুটবল ইতিহাসে দুই তারকা ফুটবলারের এমন দ্বৈরথ সম্ভবত দ্বিতীয়টি নেই। অতীত ঘেঁটে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তবে ভবিষ্যতে? হতেও পারে। কিলিয়ান এমবাপ্পে আর আরলিং হলান্ড সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছেন!
পরিসংখ্যান ঘাঁটলে এমবাপ্পে-হলান্ডের কত কিছুই না বের হয়ে আসে। দুজনই কাছাকাছি সময়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছেন। মোনাকোতে ২০১৫-১৬ মৌসুমে সিনিয়র দলে নাম লিখিয়েছেন এমবাপ্পে। অন্যদিকে আরলিং হলান্ড নরওয়ের ক্লাব ব্রাইনে খেলতে শুরু করেন ২০১৬ সালে। এমবাপ্পে মোনাকো থেকে পিএসজি হয়ে রিয়াল মাদ্রিদে এসেছেন। অন্যদিকে হলান্ড নরওয়ে থেকে অস্ট্রিয়ান ক্লাব রেড বুল স্যালজবার্গে এসেছেন। সেখান থেকে জার্মান ক্লাব বুরুসিয়া ডর্টমুন্ড হয়ে বর্তমানে খেলছেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। একই লিগে না খেললেও ভক্তরা প্রায়ই পরিসংখ্যান দিয়ে দুজনকে পরিমাপ করেন। তর্কবিতর্কে মেতে ওঠেন। ঠিক যেন মেসি-রোনালদোর সমর্থকদের মতোই!
এমবাপ্পের বয়স প্রায় সাড়ে ২৭ বছর। হলান্ডের বয়স ২৬ ছুঁই ছুঁই। বয়সের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও দুজনের অর্জনের তালিকায় খুব বেশি পার্থক্য নেই। ম্যানচেস্টার সিটিতে এসে আরলিং হলান্ড প্রায় সব ট্রফিই জয় করেছেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, লিগ কাপ, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ আরও কত কী! অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের ঝুলিতেও ট্রফির সংখ্যা কম নয়। পিএসজি আর রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে জয় করেছেন অনেক ট্রফি। অবশ্য এখনো তিনি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বাদ পাননি।
গোলের পরিসংখ্যানেও দুজনের মধ্যে আছে দারুণ মিল। ক্লাব ক্যারিয়ারে এমবাপ্পের গোল সংখ্যা ৪৮৩ ম্যাচে ৩৭৩টি। অন্যদিকে হলান্ডের গোল সংখ্যা ৪০২ ম্যাচে ৩১৭টি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমবাপ্পে করেছেন ১০১ ম্যাচে ৬০ গোল। অন্যদিকে হলান্ড নরওয়ের জার্সিতে ৫২ ম্যাচে করেছেন ৫৯ গোল। বছরজুড়েই চলে দুজনের মধ্যে পরোক্ষ গোলের লড়াই। বিশ্বকাপেও সেই লড়াই চলছে সমানতালে।
চলমান বিশ্বকাপে এমবাপ্পে ও হলান্ড দুজনই চারটি করে গোল করেছেন। প্রথমে এমবাপ্পে জোড়া গোল করলেন সেনেগালের বিপক্ষে। সেদিনই ইরাকের বিপক্ষে দুই গোল করে হিসাবটা ঠিক রাখলেন হলান্ড। পরে ইরাকের বিপক্ষে এমবাপ্পে করলেন দুই গোল। একই দিনে সেনেগালের বিপক্ষে হলান্ডও করে জোড়া গোল। ‘আই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ফ্রান্স-নরওয়ে মুখোমুখি হয়। ভক্তরা ভেবেছিলেন এমবাপ্পে-হলান্ড দ্বৈরথ দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে। তবে এমবাপ্পে ফ্রান্সের জার্সিতে খেললেও হলান্ডকে বিশ্রামে রাখেন নরওয়ে কোচ।
দুই তারকার পরোক্ষ লড়াই বিশ্বকাপেও চলছে। আজ রাতে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে এমবাপ্পের ফ্রান্স মুখোমুখি হবে সুইডেনের। অন্যদিকে হলান্ডের নরওয়ে খেলবে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে। আজও কি চলবে গোলের লড়াই?
বিশ্বকাপে কেবল গোলের লড়াই নয়, চলে শিরোপার লড়াই। কিলিয়ান এমবাপ্পে দুবারের বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সের জার্সিতে দুর্দান্ত খেলছেন। অন্যদিকে ইউরোপিয়ান ফুটবলের আন্ডারডগ নরওয়ের তারকা হলান্ড। এমবাপ্পের ফ্রান্স শীর্ষ ফেবারিট। হলান্ডের নরওয়েকে নিয়ে তেমন কেউ গুরুত্ব দিয়ে ভাবেইনি। কিন্তু ফুটবল কেবল অতীত পরিসংখ্যান আর বিশ্লেষণ দিয়ে হয় না। ফুটবল হয় মাঠের লড়াইয়ে। সেই লড়াইয়ে দুই তারকা কত দূর যাবেন? গত বিশ্বকাপে এমবাপ্পে হয়েছিলেন সেরা গোলদাতা। জয় করেছিলেন গোল্ডেন বুট। এবার লিওনেল মেসি ৬ গোল নিয়ে এগিয়ে গেছেন। আর্জেন্টাইন তারকাকে কি ছুঁতে পারবেন এমবাপ্পে কিংবা হলান্ড? বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে কি পৌঁছতে পারবেন কাক্সিক্ষত গন্তব্যে?