দীর্ঘ এক যুগ পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফেরার আনন্দ আর নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি নিয়ে মাঠে নামছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত আড়াইটায় বস্টনে রাউন্ড অব ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের হতাশাকে পেছনে ফেলে নতুন করে জ্বলে ওঠা জার্মানি এবার নকআউট ধাপে নিজেদের আধিপত্য ফিরে পেতে মরিয়া।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস বেশ পুরনো। ২০০২ সালের জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে জার্মানি ১-০ গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়েছিল। এরপর ২০১৩ সালে এক প্রীতি ম্যাচে দুই দল ৩-৩ গোলে ড্র করেছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে ফের বিশ্বকাপে মুখোমুখি হওয়ার আগে জার্মানি শিবিরে বইছে আত্মবিশ্বাসের হাওয়া। চলমান বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে জার্মানরা ১০টি গোল করেছে, যেখানে গোল পেয়েছেন সাতজন আলাদা খেলোয়াড়। দলের সম্মিলিত এই পারফরম্যান্স নকআউট ম্যাচেও ধরে রাখতে চায় তারা।
জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানের জন্য এই ম্যাচটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ৩৮ বছর ৩৪১ দিন বয়সে তিনি যখন ডাগআউটে দাঁড়াবেন, তখন গত ৪০ বছরের ইতিহাসে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বকনিষ্ঠ কোচ হিসেবে রেকর্ড গড়বেন তিনি। এর আগে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের অঁরি মিশেল তার চেয়ে কম বয়সে নকআউটের ডাগআউট সামলেছিলেন।
অন্যদিকে, পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠা প্যারাগুয়ে খেলছে ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জ নিয়ে। নিজেদের ইতিহাসে নকআউট পর্বে তারা এখন পর্যন্ত কোনো গোলই করতে পারেনি। ২০১০ সালে জাপানের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে জয়ই তাদের শেষ ১৬-এর সেরা সাফল্য। তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপিয়ান দলগুলোর বিপক্ষে খেলা নিজেদের আগের চারটি ম্যাচেই হেরেছে তারা এবং সেই সব ম্যাচে কোনো গোল করতে না পারার আক্ষেপ তাদের সঙ্গী হয়েছে।
পরিসংখ্যান ও বর্তমান ফর্মের বিচারে জার্মানি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও নকআউট পর্বে অঘটন ঘটাতে ওস্তাদ অনেক দলই। তবে ১২ বছর পর নকআউটের স্বাদ পাওয়া জার্মানি সেই ২০১০ সালের সেমি-ফাইনালের হারের পর থেকে নিজেদের সবশেষ ৯টি নকআউট ম্যাচের আটটিতেই জয় তুলে নিয়েছে। তাই আজকের ম্যাচেও নিজেদের দাপট অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলটি। প্যারাগুয়ে কি পারবে নিজেদের গোলখরা কাটিয়ে নতুন কোনো ইতিহাস লিখতে, নাকি জার্মানির আক্রমণের সামনে আবারও মাথানত করবে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি, সেটির উত্তর মিলবে বস্টনের মাঠে।
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ