লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি ফেরাতে গত সপ্তাহে একটি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু সেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি অমান্য করে সোমবার দক্ষিণ লেবাননে আবার বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কান্তারা ও দেইর সেরিয়ান শহরের মাঝামাঝি এলাকায় এই হামলা চালানো হয়।
এদিকে, হামলার ভয় আর চারপাশের ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। লেবাননের মন্ত্রী হানিন এল সাইয়েদ জানান, অন্তত ৪ লাখ মানুষ ইতোমধ্যে নিজেদের এলাকায় ফিরে গেছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা মানুষের সংখ্যা ৩৭ হাজার থেকে কমে ১৩ হাজারে নেমেছে। সরকার এখন দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তবে বাড়িঘর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অনেকেই এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে আটকা পড়ে আছেন।
গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে বড় ধরনের হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এরপর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪ হাজার ২৪৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১২ হাজারের বেশি মানুষ। ধ্বংস হয়েছে অনেক গ্রাম, আর ঘরবাড়ি হারিয়েছেন ১২ লাখেরও বেশি মানুষ।
এরই মধ্যে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন রাজধানী বৈরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। তারা সদ্য হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি কীভাবে ভালোভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন। প্রেসিডেন্ট আউন জানান, দক্ষিণ সীমান্ত পর্যন্ত সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হবে।
তবে ইসরায়েলের প্রধান দাবি ছিল হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে হবে। লেবাননের সেনাবাহিনী এই কাজটি সত্যিই করতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখনও বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে