বিশ্বকাপে ফুটবলীয় শক্তি ও ঐতিহ্যের বিচারে নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর মধ্যে তুলনা টানা হয়তো অনেকের কাছেই অসংগত মনে হতে পারে। এক দল যারা কখনো বিশ্বকাপ জেতেনি কিন্তু সবসময়ই ফেবারিট হিসেবে বিবেচিত হয়, আর অন্য দল যারা সর্বশেষ আসরে সেমিফাইনাল খেলে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে। তবে মেক্সিকোর মনতেরেইতে আজ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই দুই দলের লড়াইটিকে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচ হিসেবেই দেখছেন ফুটবলবোদ্ধারা। মাঠের লড়াইয়ের উত্তাপ ছাড়িয়ে এই ম্যাচটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে মাঠের বাইরের সমীকরণ আর বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল সাবেক ডাচ ফুটবলার ও বর্তমান বিশ্লেষক রাফায়েল ফন ডার ভার্টের এক মন্তব্যের মাধ্যমে। গত মার্চে এক টিভি অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেছিলেন যে, যারা ডাচ দলে খেলার মতো যথেষ্ট ভালো নন, কেবল তারাই মরক্কোর হয়ে খেলা বেছে নেন। ফন ডার ভার্টের এই মন্তব্য ডাচ ও মরোক্কান ফুটবল সম্পর্কের জটিলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। ঐতিহ্যগতভাবে নেদারল্যান্ডসে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার মরোক্কান বসবাস করেন। যার প্রভাব পড়েছে বর্তমান মরক্কো দলেও। দলটির বর্তমান স্কোয়াডের তিন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় সোফিয়ান আমরাবাত, নুসায়ের মাজরাউই ও আনাস সালেহ এদ্দিন নেদারল্যান্ডসে বেড়ে উঠেছেন এবং ফুটবল শিখেছেন। চাইলে তারা ডাচ জার্সিতেও খেলতে পারতেন, কিন্তু তারা বেছে নিয়েছেন মরক্কোকে। এই সম্পর্কের কারণেই আজকের ম্যাচে নেদারল্যান্ডসপ্রবাসী মরোক্কান সমর্থকদের উপস্থিতিকে ডাচরা ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ হিসেবে দেখছে। ডাচ পুলিশ পর্যন্ত এই ম্যাচের আগে সমর্থকদের শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।
চলতি বিশ্বকাপে দুই দলের পারফরম্যান্সও বেশ নজরকাড়া। নেদারল্যান্ডস জাপানের সঙ্গে ড্র করলেও সুইডেন ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে, মরক্কোও ব্রাজিলের বিপক্ষে ড্র এবং স্কটল্যান্ড ও হাইতিকে হারিয়ে নকআউট পর্বে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে। দলের সাফল্যের কারণেই ডাচ কোচ রোনাল্ড কোমান মরক্কোকে নিয়ে বেশ সতর্ক। তিনি সরাসরি নিজেদের ফেবারিট দাবি না করে প্রতিপক্ষের গোল করার সক্ষমতার প্রশংসা করেছেন। তবে কোমানের ঝুলিতে আছে মধুর স্মৃতিও। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে সেই ম্যাচে কোমান নিজেই ছিলেন অধিনায়ক এবং ডাচরা জিতেছিল সেবার। মরক্কোকে হারানোর কৌশল জানা কোমানের জন্য আজকের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি নিজের পুরনো অর্জনের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর এক বড় সুযোগ। এখন দেখার বিষয়, মাঠের খেলায় ডাচদের কৌশল নাকি মরক্কোর অদম্য স্পৃহা শেষ হাসি হাসে।
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ