গত ২৬ জুন রাতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে ফেসবুকে একটি নীতিমালা প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পোস্টটি সরিয়ে নেয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) প্রক্টর অফিস। এ ঘটনায় সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ ইমরান হোসেনকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার (২৯ জুন) রাতে রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, আপনাকে অদ্য ২৯ জুন তারিখ থেকে সহকারী প্রক্টর পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।
জানা যায়, গত ২৬ জুন শাবিপ্রবি প্রক্টর অফিসের ফেসবুক পেজে শিক্ষার্থীদের রাতে চলাফেরা ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত একটি নীতিমালার নোটিশ পোস্ট করা হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে সবাইকে হলের বাইরে সব কাজ শেষ করতে এবং রাত ১০টার পর ছাত্রী হলের বাইরে অবস্থান করতে নিষেধ করা হয়। একইসঙ্গে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে শিক্ষার্থীদেরকে বেডমিন্টন ও ইনডোর গেমস শেষ করতে আদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের সমালোচনার মুখে সেটি মুছে ফেলা হয়। তবে প্রক্টরিয়াল বডির দাবি, বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তটি বর্তমান প্রশাসনের নয়, বরং আগের প্রশাসনের সিন্ডিকেট সভায় পাস হয়েছিল।
এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসার পরপরই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা এটিকে ‘মুক্তচিন্তা ও স্বাধীন চলাচলের ওপর হস্তক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে শাবিপ্রবির অভ্যন্তরীণ একটি ফেসবুক গ্রুপে সমালোচনার ঝড় তোলেন। শিক্ষার্থীদের এমন জোরালো প্রতিবাদের মুখে একপর্যায়ে প্রক্টর অফিস তাদের ফেসবুক পেজ থেকে বিতর্কিত সেই পোস্টটি ডিলিট করতে বাধ্য হয়।
শিক্ষার্থীদের এমন পোস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ ইমরান হোসেন ব্যাখ্যা দিয়ে লেখেন, উল্লেখিত সময়সূচিটি আজ থেকে প্রায় বছরখানেক আগে, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ২৩৭তম সভায় পাস হয়েছিল। আমাদের বর্তমান উপাচার্য মহোদয় শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো নিয়ম নতুন করে আরোপ করেননি। প্রক্টর অফিসের পেইজের ওই পোস্টটি মূলত পূর্ববর্তী প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তের আলোকেই করা হয়েছিল।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি