জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে গতকাল শনিবার ২৮তম সিনেট অধিবেশনে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের মূল বাজেট এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম। অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনা শেষে সর্বসম্মতক্রমে এই বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
অধিবেশনে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৮৩ কোটি ৯০ লাখ ৮৭ হাজার টাকার ঘাটতি বাজেট অনুমোদিত হয়। বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০১ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং প্রাক্কলিত রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬১৭ কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য ৩৯ কোটি ৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকার ঘাটতি বাজেট অনুমোদন করা হয়। এ অর্থবছরের মূল বাজেট ছিল ৬৯০ কোটি ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। যা সংশোধনের পর দাঁড়িয়েছে ৬৬৪ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা। এতে প্রাক্কলিত আয় ধরা হয়েছিল ৫৬৫ কোটি ৩৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা। সংশোধনের পর যা দাঁড়িয়েছে ৬২৫ কোটি ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।
বাজেট বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সর্ববৃৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের উচ্চশিক্ষার শতকরা ৭০ শতাংশই এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেটের শতকরা একশত ভাগই নিজস্ব সূত্রের আয় দ্বারা সংস্থান করা হচ্ছে। অথচ দেশের অন্যান্য সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজস্ব বাজেটের শতকরা ৯০ শতাংশ সরকারি অনুদান দেয়া হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ও দায়-দায়িত্বেও পরিধি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি জাতীয় বিশ্বববিদ্যালয়ের বর্ধিত কর্মকাণ্ডের অর্থ সংস্থানের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (বিমক) মাধ্যমে সরকারের কাছে রাজস্ব খাতে অনুদান দেয়ার জন্য আহ্বান জানান।
এবারের বাজেটেও সর্বোচ্চ ৩৫২ কোটি ২৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে পরীক্ষা পরিচালন খাতে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রয়েছে বেতন-ভাতা ও সুবিধাদি খাতে ১৬৫ কোটি ১৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। এছাড়া সাধারণ আনুষঙ্গিক খাতে ৯৩ কোটি ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা এবং শিক্ষা আনুষঙ্গিক খাতে ৯৪ কোটি ৮৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ও সিনেট চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ সিনেট অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে সিনেট সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরী, ওয়ারেস আলী মামুন, আবুল হোসেন খান ও জি এম সিরাজ, আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইনে যুক্ত ছিলেন— জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিভাগীয় কমিশনারবৃন্দ। অধিবেশনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান ও প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফসহ ৭০ জন সিনেট সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি, সকল ডিন, রেজিস্ট্রার, শিক্ষক ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিডি-প্রতিদিন/জামশেদ