দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ভারতের মুম্বাইয়ের যে গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের বাস, এবার হয়তো তা পরিবর্তন হতে চলেছে। মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকায় সমুদ্রের কোলঘেঁষে একটি নতুন ৬ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন পেয়েছেন এই অভিনেতা।
মহারাষ্ট্র কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এমসিজেএমএ) গত ১৬ জুন এই বহুতল ভবন নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়, যা খান পরিবারের জন্য একটি নতুন ঠিকানার পথ তৈরি করল। তবে সালমান খান তার শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট চিরতরে ছেড়ে এখানে চলে আসছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
বান্দ্রার ছিম্বাই এলাকায় সালমান খানের বর্তমান বাসভবন থেকে সামান্য দূরত্বে এই নতুন ভবনটি গড়ে উঠবে। জানা গেছে, যে জমির ওপর এই বহুতল ভবনটি নির্মিত হবে, সেটি সালমান খানের মা সালমা খানের নামে নিবন্ধিত। সেখানে ১৯৫৬ সালের আগে নির্মিত একটি পুরোনো দোতলা বাড়ি ছিল, যা অতি সম্প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় ভেঙে ফেলা হয়। নতুন অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী, ভবনটিতে থাকবে একটি গ্রাউন্ড ফ্লোর বা নিচতলা, স্টিল্ট পার্কিং সুবিধা এবং ওপরের দিকে ছয়টি তলা। প্রায় ১,০১৪ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল আবাসন প্রকল্পটি নির্মাণ করবে ‘সাচ ডেভেলপার্স’। এর আগে গত ২০২৫ সালের অক্টোবরে বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি) থেকে এর প্রাথমিক অনুমতি মিলেছিল। পরিবেশগত শর্ত মেনে এই নির্মাণকাজে কোনো পুরোনো গাছ কাটা যাবে না এবং চারপাশে স্থানীয় প্রজাতির নতুন গাছ লাগাতে হবে।
এই নতুন আবাসন প্রকল্পের খবরটি এমন একসময়ে এলো যখন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত গুলিবর্ষণের ঘটনার পর থেকে সালমান খানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ চরমে রয়েছে। বর্তমানে এই অভিনেতাকে ওয়াই-প্লাস (Y+) ক্যাটাগরির কঠোর নিরাপত্তাবলয়ে রাখা হয়।
প্রধান সড়ক থেকে কিছুটা ভেতরে, একটি শান্ত ও নিরিবিলি গলিতে অবস্থিত এই নতুন সম্পত্তিটি খান পরিবারকে আগের চেয়ে অনেক বেশি গোপনীয়তা এবং উন্নত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৯৭৪ সাল থেকে গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করা সালমান খানের এই সম্ভাব্য নতুন ঠিকানার খবরটি স্বাভাবিকভাবেই তার ভক্তদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি