ইতালির রাজধানী রোমে স্ত্রী, কন্যাসহ প্রবাসী খুন হয়েছেন। নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলকে (৩৯) বাংলাদেশে প্রায় এক বছর আগে হত্যার হুমকি দিয়ে গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে একটি উড়োচিঠি পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তাঁর বাবা সিরাজুল ইসলাম ও স্বজনরা। এদিকে এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় গতকাল সকাল থেকে জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গ্রামের বাড়িতে চলছে মাতম। স্বজনরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। গ্রামের স্থানীয়রা কেউ জড়িত থাকতে পারেন বলে মন্তব্য করেন স্বজনরা। নিহত প্রবাসীর ছেলে আহত অয়ন ইতালির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গতকাল দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নে বাবুলের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীর ভিড়ে ভারী পরিবেশ। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন স্বজন ও পরিচিত শত শত নারী-পুরুষ। সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘২০২৫ সালে আমার ছেলে দেশে এলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আমাদের বাড়িতে একটি উড়োচিঠি পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি আমরা মৌখিকভাবে কোম্পানীগঞ্জ থানাকে জানিয়েছিলাম।’ তিনি আরও জানান, শুক্রবার ইতালির স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলীয় অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে এ মর্মন্তুদ ঘটনা ঘটে। জীবনজীবিকার তাগিদে ১০ বছর আগে ইতালি যান বাবুল। তাঁর বাবা একসময় লন্ডনে থাকতেন। নিহত অন্য দুজন হলেন বাবুলের স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু (৩৮) ও পাঁচ বছরের মেয়ে আরওয়া ইসলাম আরিশা। আর গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের ছেলে আমির হোসেন অয়ন (১৮)। স্থানীয়রা জানান, চরকাঁকড়ার গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাশ উদ্ধার এবং অয়নকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।
ইতালির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার রাতে ওই আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাদের হত্যা করা হয়েছে। রোম পুলিশের বিশেষ শাখা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেন। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম জানান, ভুক্তভোগী পরিবার মৌখিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছিল। এরপর পুলিশ নিয়মিত রাত্রীকালীন টহলের মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।