পশ্চিম সুন্দরবনের কয়রায় বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনী’র সঙ্গে কোস্টগার্ডের ব্যাপক গোলাগুলি ঘটেছে। এ সময় শওকত সরদার ওরফে সাকাত সরদার নামে একজন ডাকাত সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ছাড়া বাহিনীপ্রধান রবিউল ইসলামসহ দুজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত কয়রার মহেশ্বরীপুরের আড়শিবসা নদীসংলগ্ন সুন্দরবনের ভিতরে বেশো খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে কোস্টগার্ডের দুই সদস্য আহত হন এবং স্পিডবোট টাইফুন-১৭ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। এ ঘটনায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের পেটি অফিসার (সিডি) আরিফুল ইসলাম কয়রা থানায় মামলা করেছেন।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কাহ আলম জানান, সুন্দরবনের ভিতর বনদস্যুদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সেখানে কোস্টগার্ড অভিযান চালায়। তবে টের পেয়ে বনদস্যুরা গোলাগুলি শুরু করে। জবাবে কোস্টগার্ড ২১৬ রাউন্ড গুলি ও ১ রাউন্ড ব্লাঙ্ক কার্তুজ ফায়ার করে। একপর্যায়ে বনদস্যুরা রাতের অন্ধকারে ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাহিনীপ্রধান রবিউল ইসলাম (৫০), সদস্য সাকাত সরদার (৬৪) ও ইসরাফিল হাওলাদারকে (২৬) আটক করে হাসপাতালে নেয় কোস্টগার্ড। কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাকাত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। রবিউল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আসামিদের ছোড়া গুলিতে কোস্টগার্ডের স্পিডবোট ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কোস্টগার্ড সদস্য সারোয়ার জাহান সবুজ ও কার্তিক দেবনাথ শুভ আহত হন। জানা যায়, সাকাত সরদার কয়রার মহেশ্বরীপুরের ইজহার সরদারের ছেলে। তার পরিবারের দাবি, তিনি বনদস্যু নন। সুন্দরবনের বনদস্যুরা তাকে তুলে নিয়ে মুক্তিপণের দাবিতে আটকে রাখে। গোলাগুলির একপর্যায়ে পালিয়ে লোকালয়ে এলে তেঁতুলতলা থেকে ইসরাফিল নামে বনদস্যুকে জনতা আটক করে পুলিশে তুলে দেয়।