প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরুর আগে সংসদ সদস্যদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য শেষ করার কড়া নির্দেশনা দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি সদস্যদের সময় পরিকল্পনা করে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’ এ নিয়ে সংসদের অধিবেশন কক্ষে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। পরে সংসদ পরিচালনায় একই বাক্য উচ্চারণ করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
গতকাল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরুর আগে স্পিকার বলেন, ‘হাতে সময় কম। তাই সরকারি ও বিরোধী দলের হুইপরা যে সময় নির্ধারণ করেছেন, তার বাইরে কোনো সদস্যকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে না। আজ ও আগামীকাল-এই দুই দিন বাজেটের ওপর আলোচনা চলবে। এরপর অন্য কার্যসূচি হাতে নেওয়া হবে। তাই আপনাদের যে সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, সেই সময়ের মধ্যেই বক্তব্য শেষ করতে হবে।’ স্পিকার সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, বক্তব্য যেন অসমাপ্ত না থাকে, সে জন্য শুরু থেকেই সময় মাথায় রেখে বক্তব্য প্রস্তুত করতে হবে। বাজেট অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে সবাইকে নির্ধারিত সময় মেনে চলতে হবে। বাজেট আলোচনায় প্রথম বক্তা হিসেবে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমানকে ৬ মিনিট সময় দেন স্পিকার। নির্ধারিত সময় শেষ হলে তিনি বক্তব্য থামিয়ে দেন। এরপর গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনকে ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়। বক্তব্যের শেষ দিকে মিলন অতিরিক্ত ২ মিনিট সময় চাইলে স্পিকার তা নাকচ করে বলেন, ‘সময় নাই।’ এরপরও মিলন সময়ের আবেদন জানালে স্পিকার রসিকতার সুরে বলেন, ‘আমি তো শুরুতেই বলেছি, মুদি দোকানে লেখা থাকে, বাকি চাহিয়া লজ্জা দিবেন না; সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’ শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুর রহমান কিরণকে ৬ মিনিট সময় দিয়ে স্পিকার আবারও সদস্যদের ঘড়ির দিকে নজর রেখে বক্তব্য শেষ করার পরামর্শ দেন। অন্তত এক মিনিট হাতে রেখেই বক্তব্য শেষ করার চেষ্টা করতে হবে। একইভাবে চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি সময়ের প্রত্যাশা করলে স্পিকার তাকেও একই বার্তা দেন।
গিয়াস উদ্দিন কাদের বলেন, তিনি ৭ মিনিট সময় পেয়েছেন এবং স্পিকারের কাছ থেকে কিছুটা উদারতা আশা করেছিলেন। তবে তার বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই স্পিকার হেসে বলেন, ‘সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’ এ মন্তব্যে অধিবেশন কক্ষে হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময় মেনেই বাজেট আলোচনা পরিচালনা করেন স্পিকার। ডেপুটি স্পিকারও একই নির্দেশনা মেনে অধিবেশন পরিচালনা করেন।