স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর পরই নির্বাচনের রোডম্যাপ তৈরি করবে সাংবিধানিক সংস্থাটি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। নির্দলীয় স্থানীয় নির্বাচনে অনেক দল তাদের প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেছে। ইসি সূত্র জানিয়েছেন, নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই তফসিল ঘোষণা করবে ইসি। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলাসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে ভোট গ্রহণ করার কথা রয়েছে। তবে ভোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারের সঙ্গে নীতিগত আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পর আগস্টের শেষভাগে বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করতে পারে ইসি। ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে একটি জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে ইসি বড় পরিসরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এবার স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য নির্বাচনি বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের যে কাজ চলছে, তার অগ্রগতি সরকারকে অবহিত করা হবে। এ ছাড়া সারা দেশে একসঙ্গে বা ধাপে ধাপে ভোট করার ক্ষেত্রে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ, আনসার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনী মোতায়েনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করার বিষয়েও আলোচনা হবে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে ইসি।
ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকারের ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১ জেলা পরিষদ, ৪৯৫ উপজেলা পরিষদ, ৩৩০ পৌরসভা, ১৩ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদে ভোটের প্রস্তুতি চলছে। এ ক্ষেত্রে সব নির্বাচন একবারে না করে এক বছর তথা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথমেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন করার চিন্তা করছে ইসি। সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে ৩ হাজার ৮০০টির বেশি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবে, তাই এগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ : প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পরপরই অর্থাৎ ২০২৬-এর শেষভাগ বা ২০২৭-এর শুরুর দিকে ধাপে ধাপে সব উপজেলা ও পৌরসভায় ভোট গ্রহণ হবে।
সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ : ১৩ সিটি করপোরেশন (নতুন গঠিত বগুড়া সিটিসহ) ও ৬১ জেলা পরিষদের নির্বাচনও এই এক বছরের রোডম্যাপের মধ্যে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ‘সরকারের সঙ্গে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের কোনো আলোচনা হয়নি। তাদের প্রস্তুতি আছে নিশ্চয়ই বা সেই প্রেক্ষাপটে তারা একটা সময়সীমা সম্পর্কে বলেছেন। কিন্তু এ মুহূর্তে আমাদের কাছে ওই সম্পর্কিত কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই। ওই তথ্যটা পাওয়ার পর আমাদের যে কর্মপরিকল্পনা সেগুলো আমরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচ আপ করে নেব কোন কাজটা কতদিন, কীভাবে করব। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো মূলত পর্যায়ক্রমে হয়। এখন কোনটা আগে হবে, কোনটা পরে, এটাও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আর নির্বাচনের প্রস্তুতির ব্যাপারে যেসব জিনিস লাগে ইসির পক্ষ থেকে সেটা হচ্ছে।’ স্থানীয় সরকারের সব কি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে? জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘ওভার দ্য পিরিয়ড অব টাইম, এতদিন হয়ে যাওয়ার কথা। কিছু কিছু হয়তো হয়নি। যে নির্বাচনগুলো আপনার ’২৩ সালের দিকে হয়েছে বা ’২৪ সালের শুরুতে হয়েছে, সেখানে পাঁচ বছর হতে আরও সময় লাগবে। কতগুলো হয়েছে, কতগুলো হয়নি এ ডেটাটা আমার কাছে এই মুহূর্তে নাই।’ যেখানে যেখানে প্রশাসক বসেছেন, সেখানে কি আপনারা তফসিল ঘোষণা করবেন, সেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, নাকি প্রশাসকের মেয়াদ পরিপূর্ণ হওয়ার প্রয়োজন আছে? উত্তরে তিনি বলেন, ‘এগুলো হচ্ছে আইনগত ব্যাপার। লোকাল গভর্নমেন্ট ডিভিশনের সঙ্গে আলোচনার পর কীভাবে করা হবে তা নির্ধারণ করা হবে। এগুলো খুব মাইক্রো লেভেলের বিষয়। এই মুহূর্তের বিষয় না আমার কাছে।’