২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সেই প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে ২-১ ব্যবধানের ধাক্কার পর থেকে বিশ্বমঞ্চে আর হারের মুখ দেখেনি আর্জেন্টিনা। জর্ডানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করা আর্জেন্টিনা আজ ২৮ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মঞ্চে টানা ১১টি ম্যাচে অপরাজিত থাকার এক দুর্দান্ত রেকর্ড ধরে রেখেছে। কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ দুটি ম্যাচ, নকআউট পর্বের ৪টি ম্যাচ (যার মধ্যে ডাচদের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে জয়ও ফিফার নিয়মে ড্র বা অপরাজিত ধরা হয়) এবং চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচ মিলিয়ে এই অপরাজেয় দৌড় ধরে রেখেছে লিওনেল স্কালোনির দল।
তবে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে এটি আর্জেন্টিনার অন্যতম সেরা ধারাবাহিকতা হলেও, বিশ্বকাপের মঞ্চে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা রেকর্ডটি ভাঙতে মেসিদের এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অপরাজিত থাকার অনন্য বিশ্বরেকর্ডটি এককভাবে ব্রাজিলের দখলে। সেলেসাওরা বিশ্বকাপে টানা ১৩টি ম্যাচে অপরাজিত থাকার এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছিল, যা আজ পর্যন্ত ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ। ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ১৯৬২ সালের চিলির বিশ্বকাপ ছুঁয়ে ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা ৩টি আসর জুড়ে বিস্তৃত ছিল ব্রাজিলের এই অপরাজেয় রাজত্ব। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচ, ১৯৬২ বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচ এবং ১৯৬৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বুলগেরিয়াকে হারিয়ে টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর হাঙ্গেরির কাছে ৩-১ ব্যবধানে হেরে ভেঙেছিল পেলের ব্রাজিলের সেই অমর রেকর্ড।
সেই হিসেবে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের এই সর্বকালের সেরা নজিরটি স্পর্শ করা থেকে আর্জেন্টিনা আর মাত্র ২টি ম্যাচ পিছিয়ে রয়েছে। আগামী ৩ জুলাই রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দকে হারালে বা ড্র করলে (টাইব্রেকারে ফল যা-ই হোক) আর্জেন্টিনার অপরাজিত ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়াবে ১২-তে। এরপর যদি তারা রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচটিতেও অপরাজিত থাকতে পারে, তবেই তারা ছুঁয়ে ফেলবে ব্রাজিলের সেই ঐতিহাসিক ১৩ ম্যাচের মহাকাব্যিক রেকর্ড। ৩৯ বছর বয়সী অধিনায়ক লিওনেল মেসির হাত ধরে চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার যে উড়ন্ত ফর্ম, তাতে ব্রাজিলের এই ৬০ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙার স্বপ্ন বুনতেই পারেন আকাশী-সাদা সমর্থকেরা।
বিডি প্রতিদিন/আশিক