প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ঘাটতি বাজেট নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ঘাটতি বাজেটের তথ্যও তুলে ধরেন তিনি।
রবিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে প্রায় ৩০ শতাংশের মতো বরাদ্দ রেখেছেন। ভৌত অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশের ওপরে বরাদ্দ রেখেছেন। সাধারণ সেবার ক্ষেত্রে ২৬ শতাংশের মতো বরাদ্দ রেখেছেন। অর্থাৎ অর্থের বরাদ্দের অনুপাতটা তিনি চমৎকারভাবে সাজিয়েছেন। সামাজিক অবকাঠামো দ্বারা আমাদের ১৮ কোটি যে মানুষ, তাদের আমরা সক্ষম করতে সক্ষম হবো। তাদের মানবসম্পদ উন্নয়নের অর্থাৎ সেই জায়গাটা হলো আমাদের একমাত্র সম্ভাবনাময় খাত। ১৮ কোটি মানুষকে দক্ষ, যোগ্য হিসেবে তৈরি করা। সেক্ষেত্রে তিনি যে বরাদ্দ রেখেছেন, যথেষ্ট বরাদ্দ রেখেছেন, সময়োপযোগী বরাদ্দ রেখেছেন, ৩০ শতাংশের মতো বরাদ্দ। এই দক্ষ মানবসম্পদ যখন রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করবে। অনগ্রসর জাতিকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য, সাধারণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার জন্য ২৬ শতাংশের কাছাকাছি বরাদ্দ রেখেছেন, যা আমাদের অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, আমার মনে হচ্ছে যেভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আমাদের মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে, তাতে জনগণের সঞ্চয় বাড়বে। অতএব ব্যাংকের অর্থের ঘাটতি কিন্তু হবে না। ঘাটতি বাজেটের কথা বলা হয়েছে। কর যদি আহরিত হয়, রাজস্ব ঠিকমতো যদি আহরিত হয়, ব্যাংক থেকে যদি লোনটা যেটা নির্ধারণ করা হয়েছে পাওয়া যায়, ঘাটতি বাজেট হওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না। ঘাটতি বাজেটের কথা বলা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আপনি যান, সর্বশেষ বাজেটে ৫.৫ জিডিপির ঘাটতি বাজেট। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ। আপনি চীনে যান, সেখানেও ৪ শতাংশ জিডিপির ঘাটতি বাজেট। অতএব এই ঘাটতি বাজেট আমাদের এই দুরবস্থার মধ্যে আমরা সক্ষম হবো এটা মিটআপ করতে এবং অ্যাচিভ করতে। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ৬.৫ শতাংশ।’
বিরোধীদলের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, যারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন, তাদের জন্য বলতে চাই, প্রথম বিরোধী দল হয়েছেন, অনেক জায়গায় সমালোচনা করতে ভুল করেছেন। সরকারি দল এখনো হননি। আমার বিশ্বাস আর দুই-চারবার-পাঁচবার বিরোধী দল থাকলে আস্তে আস্তে তারা সমালোচনাটাও বুঝে যাবেন। আমি ওই সমালোচনাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছি না।
বিডি প্রতিদিন/কেএ