দেশের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১৫ হাজার ৮৪৪টি অনুমোদিত শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে আট হাজার ৪৮৬টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক। এরইমধ্যে দুই হাজার ২০৪টি শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ চেয়ে সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি) রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আজ রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ–৩ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম এবং কুমিল্লা–৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য মো. আবদুল হাসনাতের পৃথক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।
স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১০টায় অধিবেশন শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে সদস্যদের লিখিত প্রশ্নের জবাব টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে সাধারণ ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কারিগরি শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি নতুন পাঠ্যপুস্তক চালু করা হবে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষামন্ত্রী মিলন বলেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজার ৮৪৪টি শিক্ষক পদের মধ্যে বর্তমানে সাত হাজার ৭৪ জন কর্মরত আছেন। আট হাজার ৪৮৬টি পদ শূন্য রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইনস্ট্রাক্টর (৯ম গ্রেড) ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর (১০ম গ্রেড) পদে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে বিসিএস (ক্যাডার ও নন-ক্যাডার) পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরইমধ্যে দুই হাজার ২০৪টি শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ চেয়ে পিএসসিতে রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছে। ৪৫তম বিসিএসে পিএসসি ৯৭ জন ক্যাডার এবং ৩৪৯ জন নন-ক্যাডার শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে। পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পদোন্নতির মাধ্যমেও শূন্য পদ পূরণ করা হয়ে থাকে। তবে পদোন্নতিযোগ্য চার হাজার ১৩১টি শিক্ষক ও কর্মচারীর পদে কর্মরত জনবল না থাকায় সেসব পদে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে সাধারণ ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কারিগরি শিক্ষা’ বিষয়ে নতুন একটি পাঠ্যপুস্তক চালু করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্র, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে ধারণা লাভ করবে।
আবদুল্লাহ আল আমিনের পৃথক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, পাহাড়ি অঞ্চলে যেসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে তাদের ভাষাগত প্রতিবদ্ধকতা নিরসনের লক্ষ্যে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাদরি ও গারো মাতৃভাষা ভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা (এমএলই) কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে ৫টি ভাষার (চাকমা, গারো, মারমা, ত্রিপুরা ও সাদারি) শিক্ষকদের মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু হয়েছে। যার ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর হবে।
যশোর–৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের শিখন প্রক্রিয়াকে আরও আনন্দময় এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভার স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশ নিশ্চিত করতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে নতুন একটি পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বই শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা, আত্মপ্রকাশের সক্ষমতা এবং বহুমাত্রিক প্রতিভা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে শিখন কার্যক্রম আরও অংশগ্রহণমূলক ও আনন্দময় হবে।
বাগেরহাট–২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হকের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলার কারণে যেসব এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতার বকেয়া সৃষ্টি হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে বিধি-বিধান অনুসরণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বকেয়া এমপিও পরিশোধের ব্যবস্থা নিয়েছে।
মন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করলে বিধি অনুযায়ী তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
কক্সবাজার–৩ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান এবং ময়মনসিংহ–৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৭৪টি। এর মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৫৬টি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১১৬টি এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ২টি। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় ৩০টি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৮টি এবং প্রকৌশল, কৃষি, মেডিকেল ও অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় ৮টি রয়েছে।
বিডি-প্রতিদিন/জামশেদ