অধিনায়ক হিসেবে ইতালিকে বিশ্বকাপ জেতানো ফাবিও কান্নাভারো এবার কোচ হিসেবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে দেখলেন টুর্নামেন্টের কঠিন বাস্তবতা। টানা তিন ম্যাচে হেরে নিজেদের অভিষেক বিশ্বকাপ অভিযান হতাশার মধ্য দিয়ে শেষ করেছে উজবেকিস্তান। তবে বিদায়ের পরও মুখে ছিল কান্নাভারোর হাসি, যার ব্যাখ্যায় তিনি মনে করিয়ে দিলেন তার আগেই বলা সেই কথাটি, 'বিশ্বকাপ খুবই নির্মম।'
গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয় উজবেকিস্তান। শেষ ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ করে দলটি।
পর্তুগালের বিপক্ষে বড় হারের পর যেমন হাসতে দেখা গিয়েছিল কান্নাভারোকে, তেমনি ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পরাজয়ের পরও তার মুখে ছিল হাসি। ম্যাচ শেষে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইতালির সাবেক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক বলেন, তার হাসির আড়ালে ছিল হতাশা নয়, বরং বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার চেষ্টা।
কান্নাভারো বলেন,'আপনাদের কি মনে হয় আমি নার্ভাস নই বা ক্ষুব্ধ নই? আমিও ভালো অনুভব করছি না, কারণ আমিও হারতে পছন্দ করি না। আমরা অবশ্যই কিছু ভুল করেছি। কিন্তু আমি কখনোই আমার খেলোয়াড়দের দোষ দেব না। ড্র হওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই বলেছিলাম, বিশ্বকাপ খুবই নির্মম।'
তিনি আরও বলেন,'খেলোয়াড়রা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছে। তারা এখন ড্রেসিংরুমে ভীষণ হতাশ। বিশ্বাস করুন, উজবেকিস্তানের আর কারও চেয়ে তারাই এই হার সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে।'
অভিষেক বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী কান্নাভারো। উজবেকিস্তানের ফুটবল উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, 'আমাদের একাডেমিগুলোতে আরও বিনিয়োগ করতে হবে। তরুণ ফুটবলারদের উন্নয়নে অর্থ ব্যয় করতে হবে। আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরে উজবেকিস্তানকে নিয়মিত বিশ্বকাপে দেখতে চাইলে এটাই একমাত্র পথ।'
বিডি প্রতিদিন/এম.এস