ভারতের মহারাষ্ট্রে একটি শিশু দিবাযত্ন ও প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্রে নজরদারিহীন অবস্থায় রেখে দেওয়ার ঘটনায় ২৩ মাস বয়সী এক শিশুকে অপর একটি শিশু ২৫ বার কামড় দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে ওই শিশুকে মারধরও করা হয়। এ ঘটনায় শিক্ষাকেন্দ্রটির প্রধান নির্বাহীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের সিডকো এন-১ এলাকার ‘ফার্স্টক্রাই ইনটেলিটটস’ প্রাক্-প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দিবাযত্ন কেন্দ্রে। ২২ জুনের এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির বাবা তাকে শিক্ষাকেন্দ্রে রেখে যান। প্রায় ১১টার দিকে এক শ্রেণিকক্ষ-সহকারী একজন শিশুকে নিয়ে কক্ষের বাইরে যান এবং বের হওয়ার সময় দরজাটি বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। এরপর অন্তত ৩০ মিনিট কক্ষটিতে থাকা ছোট ছোট শিশুরা কোনো শিক্ষক বা কর্মীর তত্ত্বাবধান ছাড়াই ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কক্ষে বড়দের অনুপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন শিশু কান্না শুরু করে। একপর্যায়ে শিশুদের মধ্যে ঝগড়া বাধে। এ সময় আড়াই বছর বয়সী এক ছেলে ২৩ মাস বয়সী শিশুটিকে দীর্ঘ সময় ধরে মারধর ও একাধিকবার কামড় দেয়।
ঘটনার ধারণ করা নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্যে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষ-সহকারী কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এক শিশু অন্য শিশুদের মারধর করছে।
অভিযোগকারী পরিবারের ভাষ্য, তাঁদের সন্তানের মুখ, বুক, পিঠ ও পায়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। পিঠে ছিল অনেকগুলো কামড়ের দাগ। একই ঘটনায় একটি কন্যাশিশুও আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
শিশুটির বাবা-মা জানান, সেদিন বাসায় ফেরার পরই তাঁরা সন্তানের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। তাঁদের অভিযোগ, সন্তানকে নিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষাকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ কোনো আঘাতের বিষয় জানায়নি। এমনকি শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি বা প্রাথমিক চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি।
অভিভাবকদের দাবি, বিষয়টি জানতে চাইলে প্রথমে শিক্ষাকেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিশুটির শরীরে সামান্য আঁচড় লেগেছে। পরে তাঁরা নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্য দেখতে চাইলে তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।
পরে অভিভাবকেরা থানায় অভিযোগ করলে সিডকো শিল্পাঞ্চল থানার পুলিশ প্রধান নির্বাহীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগ দায়ের করা থেকে বিরত রাখতে শিক্ষাকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেছিল। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয় বলেও দাবি করা হয়েছিল। আহত শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকর তদারকির দাবি জোরালো হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়শ্রী চাভান জানান, ঘটনার পর শিক্ষাকেন্দ্রটি পরিদর্শন করা হয়েছে এবং দিবাযত্ন কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পরিচালনাকারীরা প্রয়োজনীয় নিবন্ধন সনদও দেখাতে পারেননি।
বিডি-প্রতিদিন/শআ