নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় দিন দিন বেড়ে চলেছে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব। এতে বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই কুকুরের কামড়ে আহত ব্যক্তিরা স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি উদ্যোগে কুকুর নিয়ন্ত্রণ বা জলাতঙ্ক প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বসবাসের রূপগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। দলবদ্ধ কুকুর প্রায়ই পথচারীদের ধাওয়া করছে। অনেক ক্ষেত্রে শিশু ও শিক্ষার্থীরা কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছে। উপজেলা পরিষদ চত্বরেও কুকুরের অবাধ বিচরণ দেখা যায়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে চর্মরোগে আক্রান্ত কুকুরও ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব বেওয়ারিশ কুকুরের অধিকাংশেরই জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়নি। ফলে কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ছে। স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ জন কুকুরে কামড়ানো রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। গত ছয় মাসে প্রায় দেড় হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মৈকুলি এলাকার বাসিন্দা শাহিবা মাহাবুবা বলেন, বাজারে যাওয়ার সময় একটি কুকুর তাঁর আট বছর বয়সী ছেলে ইয়াসের পায়ে খামচি দিয়ে রক্তাক্ত করে। পরে ঢাকার মহাখালী ডগ হাসপাতালে নিয়ে টিকা দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, রাস্তায় বের হলেই এখন বেওয়ারিশ কুকুরের ভয়ে থাকতে হয়।
গোলাকান্দাইল এলাকার গাড়িচালক রাজীব মিয়া জানান, ভোরে গাড়ি বের করার সময় কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে টিকা নিতে হয়েছে।
বোচারবাগ এলাকার রাজমিস্ত্রি কামাল বলেন, সম্প্রতি তাঁর গ্রামের তিনটি শিশু কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. অরুপ রতন নাহার বলেন, প্রতিদিন পাঁচ থেকে ১০ জন কুকুরে কামড়ানো রোগী হাসপাতালে আসছেন। তাঁদের প্রয়োজনীয় রেবিস টিকা দেওয়া হচ্ছে। তিনি পরামর্শ দেন, কুকুরের কামড় বা আঁচড় লাগার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতস্থান ১০ থেকে ১৫ মিনিট সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেললে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
রূপগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সজল কুমার দাস বলেন, আবাসস্থলের পরিবর্তনের কারণে কুকুরগুলো লোকালয়ে বেশি চলে আসছে। ২০১৯ সালের পর থেকে সরকারিভাবে কুকুর নিয়ন্ত্রণ বা জলাতঙ্ক প্রতিরোধে ব্যবহৃত ভ্যাকসিন কিংবা কুকুর নিধন সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ