রাজধানীর ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার বাঁশেরপুল এলাকা থেকে নাসরিন আক্তার (২৭) নামে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী পলাশকে (প্রাইভেটকার চালক) আটক করা হয়েছে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা—তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার দুপুরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাতে স্টাফ কোয়ার্টার বাঁশেরপুল এলাকার একটি বাসা থেকে নাসরিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ডেমরা থানার এসআই শায়েখ খসরু জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
অন্যদিকে, নিহতের বাবা কৃষক ইকবাল হোসেন অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমার জামাতা পলাশ একজন প্রাইভেটকার চালক এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। আমার মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গত রাত দেড়টার দিকে পলাশ আমাদের ফোন করে জানায়, নাসরিন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ দেখতে পাই।’
তিনি আরও জানান, নাসরিন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। প্রায় নয় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। এর আগে তাদের একটি সন্তান জন্মের পর মারা যায়।
ডেমরা থানার ওসি তাইফুর রহমান মির্জা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে নাসরিন আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নিহতের স্বামী পলাশকে আটক করা হয়েছে।
নিহত নাসরিন আক্তার কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর গ্রামের কৃষক ইকবাল হোসেনের মেয়ে। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার বাঁশেরপুল এলাকায় বসবাস করতেন।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল