স্কোরবোর্ডের ৩-১ ব্যবধানের হারটি কখনোই ডালাসের মাঠে জর্ডানের দেখানো বীরত্ব ও অদম্য লড়াইয়ের সঠিক চিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারবে না। সোমবার ডালাস স্টেডিয়ামে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল প্রথমবার বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া এশিয়ান পরাশক্তি জর্ডান।
শক্তির বিচারে দুই দলের ব্যবধান আকাশ-পাতাল হলেও, মাঠের লড়াইয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। ম্যাচের প্রথমার্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও দ্বিতীয়ার্ধে তারা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, তা বিশ্বফুটবলের দরবারে জর্ডানের ফুটবলকে এক নতুন মর্যাদার আসনে বসিয়েছে। হারলেও ফুটবলপ্রেমীদের মন জিতে মাথা উঁচু করেই নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ মিশন শেষ করলো জামাল সেলামির শিষ্যরা।
প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার সেট-পিস কৌশলের কাছে পরাস্ত হয়ে জিওভানি লো সেলসো এবং লাউতারো মার্টিনেজের গোলে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে জর্ডান। তবে বিরতির পর কোচ জামাল সেলামির দুটি সাহসী পরিবর্তন পুরো ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেয়। মাঠের নামেন দলের প্রধান তারকা মুসা আল-তামারি। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অধিনায়ক এহসান হাদ্দাদের চমৎকার ক্রস থেকে স্লাইডিং শটে গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন আল-তামারি, যা ছিল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জর্ডানের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম গোল।
এই গোলের পর প্রায় ১৫ মিনিট আর্জেন্টিনাকে সম্পূর্ণ ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়ে সমতায় ফেরার একাধিক আক্রমণ চালায় জর্ডান। শেষ পর্যন্ত ৬০ মিনিটে লিওনেল মেসি মাঠে নেমে ৮০ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল না করলে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকমও হতে পারতো। কোনো পয়েন্ট না পেয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করার এই স্মৃতি জর্ডানের ফুটবলের ভবিষ্যৎ যাত্রায় অনেক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
বিডি প্রতিদিন/আশিক