ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে হাদিস মিয়া (যুবক) নিহত হয়েছেন। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (২৮ জুন) রাত ৮টা থেকে পৌনে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার কালিকচ্ছ বাজার এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত হাদিস মিয়া উপজেলার ধর্মতীর্থ চাকসার এলাকার সামসু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সূর্যকান্দি গ্রামের ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন একই উপজেলার ধরন্তি গ্রামের আশিক ও আলালের কাছে বিলে মাছ ধরার জন্য বেড়ি দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত পাঁচ লাখ টাকার চটা-পাটি বিক্রি করেছিলেন। তবে প্রায় নয় মাস ধরে পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় বিষয়টি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
রোববার বিকেলে কালিকচ্ছ শহীদ মিনার এলাকায় মোশারফ হোসেনের সঙ্গে আশিক ও আলালের দেখা হয়। এসময় তিনি পাওনা টাকা চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। ঘটনার খবর দুই পক্ষের লোকজনের কাছে পৌঁছালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাত ৮টার দিকে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অন্ধকারের মধ্যে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দীর্ঘ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে আশিক ও আলালের পক্ষের হাদিস মিয়া টেঁটাবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তিন পুলিশ কনস্টেবলসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ