বিশ্বকাপের ইতিহাসে পেনাল্টি শুটআউট নিয়ে নানা তথ্য একত্র করেছে জিওগ্রাফি ওয়েবসাইট। ১৯৭৮ সালে পেনাল্টি শুটআউটের নিয়ম চালু হলেও প্রথমবার এটি ব্যবহৃত হয় ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে, যখন সেমিফাইনালে জার্মানি ফ্রান্সকে হারায়। সেই আসরে এটিই ছিল একমাত্র ম্যাচ, যার নিষ্পত্তি হয়েছিল টাইব্রেকারে। এরপর থেকে বিশ্বকাপে মোট ৩৪টি পেনাল্টি শুটআউট হয়েছে, যা অসংখ্য রোমাঞ্চকর মুহূর্তের জন্ম দিয়েছে।
ইতিহাস বলছে, টাইব্রেকারে নেওয়া পেনাল্টির ৬৯ শতাংশই গোল হয়েছে। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৩২০ বার পেনাল্টি কিক নেওয়া হয়েছে। গোলরক্ষকদের সফল হওয়ার সুযোগ খুবই কম। গড়ে প্রতি ১০টি শটের মধ্যে মাত্র দুটি সেভ করতে পারেন তারা। অন্যদিকে, প্রচণ্ড চাপের কারণে প্রতি ১০টি শটের মধ্যে একটি কিক গোলপোস্টের বাইরেই চলে যায়।
পেনাল্টিতে এখন পর্যন্ত ২২২ বার ফুটবলাররা গোল করেছেন এবং ৯৮টি পেনাল্টি মিস করেছেন। মিস করা পেনাল্টি শটের ভেতর ৭০টি গোলরক্ষকরা সেভ করেছেন, ৭ বার গোলবারের উপর দিয়ে চলে গেছে, ৭ বার ক্রসবারে লেগেছে, ৮ বার মাটি কামড়ে বল বাইরে গেছে, ৫ বার বাম পাশের অনেক বাইরে দিয়ে গেছে এবং ১ বার ডান পাশের অনেক বাইরে দিয়ে বল চলে যায়।
এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গোলরক্ষক ও পেনাল্টি শুটারদের জন্য সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আশা করা যায়, কোনো দলকে যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হতে হয়। তবে প্রয়োজনে এগুলো কাজে লাগতে পারে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে কখনোই এমন হয়নি যে গোলরক্ষক গোললাইন ছেড়ে এগিয়ে আসায় কোনো পেনাল্টি বাতিল হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, শট নেওয়ার মুহূর্তে গোলরক্ষকের অন্তত একটি পা গোললাইনে থাকতে হবে। যদি গোলরক্ষক বল ঠেকান কিন্তু তার পা লাইনে না থাকে, তাহলে ভিএআর পুনরায় পেনাল্টি নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে।
সাধারণভাবে গবেষণায় দেখা যায়, টাইব্রেকারে আগে শট নেওয়া দল মানসিকভাবে এগিয়ে থাকে। যারা প্রথমে পেনাল্টি নেয় এমন দলের ক্ষেত্রে প্রথম ও দ্বিতীয় পেনাল্টি টেকারের শটে গোল হয়েছে ৭২.১%। অন্যদিকে ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শটে গোল হয়েছে ৬৭.৬%। প্রথমে শট নেওয়া দলই শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছে।
এ কারণেই এক সময় 'এবিবিএ' পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব উঠেছিল। এই পদ্ধতিতে প্রথমে 'এ' দল একটি শট নেবে, এরপর 'বি' দল টানা দুটি শট নেবে। তারপর দুই দল পর্যায়ক্রমে দুটি করে শট নেবে। তবে শেষ পর্যন্ত এই পদ্ধতি চালু হয়নি।
টাইব্রেকার যত এগোয়, পেনাল্টি নেওয়া খেলোয়াড়দের ওপর চাপ তত বাড়ে। তাই প্রথমে সফলভাবে গোল করতে পারলে প্রতিপক্ষের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি হয়।
একসময় ধারণা ছিল, বাঁ-পায়ের খেলোয়াড়রা সবসময় একই দিকে শট নেন, তাই তাদের পেনাল্টি ঠেকানো সহজ। কিন্তু বিশ্বকাপের টাইব্রেকারের পরিসংখ্যান এই ধারণাকে সমর্থন করে না। ডান পায়ে শট নেওয়ার পেনাল্টিতে গোল হয়েছে ৬৯% এবং বাম পায়ের শটে গোল হয়েছে ৭১%।
২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে কলম্বিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে পর্যন্ত বিশ্বকাপের কোনো টাইব্রেকারে ওপরের ডান কোণ লক্ষ্য করে নেওয়া শট মিস হয়নি। কিন্তু সেই ম্যাচে কলম্বিয়ার মাতেও উরিবে ক্রসবারে বল মেরে সুযোগ নষ্ট করেন এবং শেষ পর্যন্ত দলটি বিদায় নেয়।
প্রতিটি শটে যদি গোলরক্ষক ডান দিকে ঝাঁপ দেন, তাহলে প্রতিপক্ষ সহজেই কৌশল বুঝে ফেলবে। তবে পরিসংখ্যান বলছে, পেনাল্টি নেওয়া খেলোয়াড়রা গোলরক্ষকের ডান দিকেই তুলনামূলক বেশি শট নিতে ঝুঁকেন। এক্ষেত্রে ২৫.৬% শট নেওয়া হয়েছে ডান দিকে নিচের অংশে।
বিডি-প্রতিদিন/এআইডি