এ পর্যন্ত রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং যেগুলো এখনো প্রত্যাহার হয়নি সেগুলো নিয়ে কমিটি কাজ করছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। গতকাল স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান তিনি। সরকারি দলের সদস্য নিলোফার চৌধুরী মণির প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মামলার এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে সারা দেশে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নামে কতটি মামলা দায়ের হয়েছে তার পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীনের প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী সংসদকে জানান, সারা দেশে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে শূন্যপদ পূরণের জন্য ইতোমধ্যে ছয় মাস, এক বছর ও পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ করা হবে।
অবসরসুবিধার ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে : বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসরসুবিধা বোর্ডে প্রায় ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সংসদ সদস্য মো. আবদুল ওয়ারেছের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একজন শিক্ষক-কর্মচারী গড়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকা অবসরভাতা পেয়ে থাকেন।
-নিজস্ব প্রতিবেদক
এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রায় ৮ হাজার ৭১০ কোটি টাকা প্রয়োজন। বর্তমানে অবসর তহবিলে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। ফলে প্রায় ৭ হাজার ৪১০ কোটি টাকার অর্থ ঘাটতি রয়েছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে আগস্ট ২০২৩ থেকে ২১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার এককালীন বরাদ্দ প্রয়োজন।
নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন সমস্যা সমাধান : স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানান, দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন সমস্যা সমাধানে সরকার বিভিন্ন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন এবং ভাড়াভিত্তিক আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।