বিশ্বকাপ খেলছেন ২০১৪ সাল থেকে। এবার চতুর্থবার খেলছেন ফুটবল মহাযজ্ঞে। অথচ ব্রাজিলের হয়ে দলগত কোনো সাফল্য নেই। ব্যক্তিগত সাফল্যও নেই। কখনো জেতেননি ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের খেতাব। জেতেননি ব্যালন ডি’অর। তার পরও লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে উচ্চারিত হয় নেইমারের নাম। অসাধারণ প্রতিভাবান নেইমারকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে দুর্ভাগা ফুটবলার! তার মানের ফুটবলার না হওয়ার পরও অনেকেই বিশ্বকাপ জিতে কিংবদন্তি হয়েছেন। ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলার একজন ড্রিবলার। তার ফুটবল সৌকর্য উপভোগ করেন সবাই মুগ্ধ চোখে। ৩৪ বছর বয়সি নেইমারের এবারের বিশ্বকাপে না খেলার সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। কিন্তু তিনি ফিরেছেন। তাকে শেষ মুহূর্তে দলে নিয়েছেন কোচ কার্লোস আনচেলোত্তি। যেদিন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তাকে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন কোচ আনচেলোত্তি, সেদিন আনন্দে পুরো ব্রাজিল চিৎকার করে উঠেছিল। এখন তাকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখছে হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের।
বিশ্বকাপে ব্রাজিল খেলতে এসেছে হেক্সা জয়ের মিশনে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে সেলেসাওরা। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ খেলেননি নেইমার। মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও হাইতিকে হারায় ৩-০ ব্যবধানে। এরপর স্কটল্যান্ড ম্যাচে মাঠে ফেরেন নেইমার। ৭৬ মিনিটে মাঠে নেমেই ৩৪ বছর বয়সি নেইমার নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন ১৩ পাসের ১২টি সঠিক দিয়ে। কর্নার থেকে ফ্রি কিকসহ গোলবারেও শট নেন স্কটিশদের বিপক্ষে। আজ ‘এশিয়ার ব্রাজিল’ জাপানের বিপক্ষে নকআউট পর্বে মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল। আজ কি শুরুর একাদশে থাকবেন নেইমার? কোটি টাকার প্রশ্ন। নেইমার খেলবেন কি না, ব্রাজিলসহ পুরো বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা নিবিড় মনোযোগে অপেক্ষায় আছেন জাপানের বিপক্ষে ম্যাচটির।
ব্রাজিলের ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। ১২৯ ম্যাচে গোল ৭৯টি। তার পেছনে ফুটবল কিংবদন্তি পেলের গোল ৭৭টি ৮২ ম্যাচে। রোনাল্ডোর গোল ৯৮ ম্যাচে ৬২, রোমারিওর গোল ৭০ মাচে ৫৫, জিকোর ৪৮ গোল, বেবেতো ৩৮, রোনালদিনহো ৩৩ গোল করেছেন ব্রাজিলের জার্সিতে। কিন্তু কোনো ফুটবলারের মাঠে ফেরার জন্য ব্রাজিলবাসীর এতটা ভালোবাসার আকুতি দেখা যায়নি। যা দেখা গেছে নেইমারের জন্য। কোনো ট্রফি, কিংবা ব্যক্তিগত বড় অর্জন না থাকার পরও নেইমারের প্রতি ফুটবলপ্রেমীদের ভালোবাসা আকাশ ছুঁয়েছে।