সাভার ও আশুলিয়ার তুরাগ নদীতে সাতটি লাশ উদ্ধারের দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশ সুপার জানান, সম্প্রতি তুরাগ নদীতে দুটি পৃথক ঘটনায় দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হলেও সেটিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ‘৭টি লাশ উদ্ধার’ সংক্রান্ত গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি জানান, গত ২৬ জুন রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে আশুলিয়ার তুরাগ নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনরা এসে মরদেহটি শনাক্ত করেন। নিহত ব্যক্তি আশুলিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. সুমন। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ২৪ জুন দুপুরে আশুলিয়ার তুরাগ নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া রনি মোল্লার মরদেহ প্রায় ৩০ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার করে। এ ঘটনাতেও সাভার মডেল থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, এই দুটি স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তুরাগ নদীতে ভাসমান ৭টি লাশ’ উদ্ধারের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এ ধরনের অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ঢাকা জেলায় মোট ১৭৩টি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত দুটি ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত। তবে তুরাগ নদীতে সাতটি লাশ উদ্ধারের দাবির কোনো সত্যতা নেই।
এ ধরনের গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ