দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও স্থিতিশীলতায় বজায় রাখতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে ইরাক। রবিবার(২৮ জুন) ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হোসেন আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকের পর এই আহ্বান জানান।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে সকালে ইরাকে পৌঁছান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার বহনকারী ফ্লাইটটি বাগদাদ বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে স্বাগত জানান ইরাকের যোগাযোগমন্ত্রী মুস্তফা জাব্বার সানাদ। সফরে আরাগচি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরাকি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পরে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন কথা বলেন আরাগচি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে তিনি বাগদাদে আরাগচিকে আতিথ্য দিয়েছেন।
হোসেন পোস্টে লেখেন, আমরা বিশ্বাস করি, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সরাসরি যোগাযোগ হলো চ্যালেঞ্জ সমাধানের অপরিহার্য ভিত্তি। এর সঙ্গে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করার পাশাপাশি জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সুদৃঢ় করার প্রধান স্তম্ভ।
আরাকচির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হোসেন বলেন, তেহরানের সঙ্গে বাগদাদের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেন। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইরাকি এই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে তা পুরো অঞ্চলকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ অঞ্চলে নিজেদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনার জন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতিনিধিদের আতিথ্য দিতে বাগদাদ প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে বাগদাদে পৌঁছানের পর আরাগচি দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলেইমানি ও আবু মাহদি আল-মুহান্দিসের হত্যাকাণ্ডের স্থানে গিয়ে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে আরাগচি দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
সূত্র: ইরানা নিউজ।
বিডি প্রতিদিন/আরকে