১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথম কণ্ঠ দিয়ে ইতিহাস গড়েন ফেরদৌসী রহমান। এর ঠিক দুই দিন পর অর্থাৎ ২৭ ডিসেম্বর শুরু হয় শিশুদের গানের অনুষ্ঠান ‘এসো গান শিখি’। এই একটি অনুষ্ঠানই তাঁকে আপা থেকে রূপান্তর করে কোটি শিশুর প্রিয় ‘খালামণি’তে। অনুষ্ঠানটি চালুর পর ১৯৮০ সালে যখন টেলিভিশনের প্রযোজক হিসেবে কামরুন্নেসা হাসান মিনুকা এর দায়িত্ব নেন, তখন এক ঘরোয়া আলোচনায় ফেরদৌসী রহমান নিজেই এই বিশেষ সম্বোধনটি বেছে নিয়েছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে প্রযোজক মিনুকা (কামরুন্নেসা হাসান) জানান, ছোট ছোট বাচ্চা তাকে ‘আপা’ বললে তাঁর (ফেরদৌসী রহমান) ভালো লাগত না। নানি বা দাদি সম্বোধনও তিনি চাননি। সেই মুহূর্তে গুণী এই শিল্পী নিজেই সিদ্ধান্ত নেন, অনুষ্ঠানের বাচ্চারা তাঁকে ‘খালামণি’ বলে ডাকবে। সেই থেকে শুরু, যা আজও সমানভাবে অমøান। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি শুধু গানই শেখাননি, তৈরি করেছেন প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের এক অনন্য মেলবন্ধন। এমন অনেক শিল্পী আছেন যাদের তিনি শুরুর দিকে গান শিখিয়েছেন, পরবর্তীতে তাদের সন্তান এবং তাদের ঘরের সন্তানরাও ফেরদৌসী রহমানের কাছে গান শিখতে এসেছেন। সংগীতের এই দীর্ঘ পথচলায় ১৯৯৫ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’, ১৯৭৭ সালে ‘একুশে পদক’ এবং ২০১৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননাসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম এই নারী সংগীত পরিচালক।