নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক হুঁশিয়ারিতে ইরানকে এক রাতেই নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এদিকে বাহরাইনের মার্কিন স্থাপনায় ইরানের পাল্টা হামলার মুখে দেশটি জাতিসংঘকে জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স, আলজাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় শনিবার বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার যুদ্ধ শুরু করতে বাধ্য হয়, তবে ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’ নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আবারও যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করায় যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজগুলো এইমাত্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোয় হামলা চালিয়েছে।’ ট্রাম্প হুমকির সুরে আরও লেখেন, ‘এমন একটি সময় আসতে পারে, যখন আমাদের পক্ষে আর সংযত থাকা সম্ভব হবে না এবং আমরা অত্যন্ত সফলভাবে যে অভিযান শুরু করেছি, তা সামরিকভাবে সম্পন্ন করতে বাধ্য হব। যদি তা ঘটে, তবে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। এক রাতেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে দেশটি।’
এর আগে ইরানের বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানোর কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শনিবার এসব হামলা চালানো হয়। হরমুজ প্রণালিতে বৃহস্পতিবার বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে। আরেক খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) গতকাল হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘আলি আল সালেম’ ??বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের ‘পোর্ট সালমান’-এ থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আগামী ৩০ দিন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলা এই নাজুক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। এদিকে বাহরাইন ইরানি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এর মাধ্যমে তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হয়েছে এবং অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সুযোগ ক্ষুণ্ন হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলা ও তেহরানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে বাহরাইন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানিয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি হামলায় মুহাররাক এলাকায় একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। অন্যদিকে কুয়েত ইরানের ‘বারবার সংঘটিত জঘন্য আগ্রাসন’ কে তাদের ‘সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
ইরানের হুঁশিয়ারি : তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ওয়াশিংটন যদি হামলা অব্যাহত রাখে তবে যুদ্ধ বন্ধের চলমান আলোচনা ‘সম্পূর্ণ স্থগিত’ করা হতে পারে। আইআরজিসি হামলার কথা স্বীকার করে বলেছে, ‘শত্রুরা জেনে রাখুক যে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হলে চলমান সব আলোচনা প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।’