সরকারকে বর্তমানে প্রচলিত ৫০০ ও ১০০০ টাকার ব্যাংক নোট বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি দাবি করেন, এতে ঘরে থাকা অপ্রদর্শিত অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরবে, ব্যাংক খাতে তারল্য বাড়বে এবং কালো টাকার প্রবাহ কমানো সম্ভব হবে।
গতকাল সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাব দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেকে ব্যাংকে না রেখে ঘরে নগদ অর্থ সংরক্ষণ করছেন। আবার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদেরও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ বাইরে রয়েছে। এ অবস্থায় সরকার যদি ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে এক থেকে দুই মাসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসবে। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রস্তাব করেন, যাদের ওই অর্থের বৈধ উৎস আয়কর নথিতে নেই, তারা ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কর পরিশোধ করে অর্থ বৈধ করার সুযোগ পেতে পারেন। এতে বাজেট ঘাটতি মোকাবিলা, ব্যাংকিং খাতে তারল্য বৃদ্ধি, ব্যাংকের সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী খাতে অর্থের প্রবাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অর্থ পাচারের বিষয়ে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার কথা বারবার বলা হলেও বাস্তবে কোনো অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা যায়নি। কারণ আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় চলে যাওয়ার পর সেই অর্থ ফেরত আনা অত্যন্ত কঠিন। তিনি বলেন, শুধু পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা নয়, এমন একটি আর্থিক ও আইনি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে মানুষ বিদেশে অর্থ না পাঠিয়ে দেশেই বিনিয়োগে আগ্রহী হন। সিঙ্গাপুর, দুবাই, কানাডা ও থাইল্যান্ডের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু আইন করলেই হবে না; এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষ স্বেচ্ছায় দেশে অর্থ রাখতে আস্থা পাবে। ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ব্যাংক রয়েছে। এমপি বা রাজনৈতিক নেতা হলেই ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানি প্রতিষ্ঠার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা বন্ধ করতে হবে। জনগণের টাকা দিয়ে দুর্বল ব্যাংক টিকিয়ে রাখার পরিবর্তে ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে খাতটি আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।