ইংল্যান্ডের তারকা ফুটবলারদের নৈপুণ্যে গ্রুপপর্বের বাধা পেরোনো গেলেও দলের দুর্বলতা এখনো স্পষ্ট। পানামার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে দলটি। তবে ম্যাচের বড় একটি সময় আক্রমণে ধারহীনতা এবং রক্ষণে দুর্বলতা চোখে পড়েছে। আগামী নকআউট পর্বে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে এই দুর্বলতা ভোগাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
গ্রুপে ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামাকে নিয়ে সাত পয়েন্ট সংগ্রহ করে অপরাজিত থেকেই শীর্ষে উঠেছে ইংল্যান্ড। এতে তুলনামূলক সহজ পথে নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ মিলেছে। কিন্তু পানামার বিপক্ষে প্রথমার্ধে দলটি প্রত্যাশিত ছন্দে ছিল না। বলের দখল ধরে রাখলেও কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি তারা। বরং কয়েকবার পাল্টা আক্রমণে পানামা ইংল্যান্ডের রক্ষণকে চাপে ফেলে দেয়।
বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলে দেন জুড বেলিংহ্যাম। তার গোলেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। এরপর হ্যারি কেইন আরেকটি গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নেন কেইন।
তবে জয় পেলেও নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে রক্ষণভাগে। গোড়ালির চোটে ম্যাচ শেষ করতে পারেননি জ্যারেল কোয়ানসাহ। আগে থেকেই কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতে ভুগছে দলটি। ফলে নকআউট পর্বের আগে রক্ষণ নিয়ে চিন্তা আরও বেড়েছে।
সাবেক অধিনায়ক রয় কিনের মতে, ইংল্যান্ডের খেলায় প্রয়োজনীয় গতি ও তীব্রতার ঘাটতি রয়েছে। তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও দলটি নিজেদের মান অনুযায়ী খেলতে পারেনি। অন্যদিকে ওয়েন রুনি সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘ আসরে হ্যারি কেইনকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া জরুরি। নইলে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে তার ওপর ক্লান্তির প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বেলিংহ্যাম ও কেইনের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এখন ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি। তবে বিশ্বকাপে অনেক দূর যেতে হলে শুধু এই দুই তারকার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। দলের অন্য খেলোয়াড়দেরও দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। নকআউট পর্বেই বোঝা যাবে, ইংল্যান্ড সত্যিই শিরোপার দাবিদার কি না।
সূত্র : রয়র্টাস
বিডি-প্রতিদিন/এআইডি