বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত ‘একাডেমিক লেখালেখি: কপিরাইট, উন্মুক্ত শিক্ষাসামগ্রী (OER) ও চৌর্যবৃত্তি’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান জ্ঞানভিত্তিক বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; সৃজনশীলতা, গবেষণা, একাডেমিক সততা এবং মৌলিক চিন্তার বিকাশের মাধ্যমে জ্ঞান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গবেষণা ও লেখালেখিতে নৈতিকতা, কপিরাইট এবং মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, প্লেজিয়ারিজম ও কপিরাইট লঙ্ঘন একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত মর্যাদা, পেশাগত সুনাম এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই প্রত্যেক শিক্ষককে গবেষণা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা, সততা এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
আইকিউএসি-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহির রায়হান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রশিক্ষণে রিসোর্স পারসন হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)-এর বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি ২০২৬ সালের প্যারাডাইম শিফট (আদর্শিক পরিবর্তন): অ্যাকাডেমিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ, খাঁটি মূল্যায়ন এবং “কপি-পেস্ট” সংস্কৃতি প্রতিরোধ, এআই-সমৃদ্ধ গবেষণা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের ফাঁদ এড়ানো, উন্মুক্ত শিক্ষণপদ্ধতি (ওপেন পেডাগোজি): ওইআর (OER)-এর মাধ্যমে সম্পদের ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা ও রক্ষণাত্মক প্রকাশনা: শিকারী জার্নাল (প্রেডেটরি জার্নাল) পরিহার এবং বৈশ্বিক সাইটেশন বৃদ্ধি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় এ প্রশিক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ৩৩ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
বিডি-প্রতিদিন/জেডআর